হাসিনা ও হানিফসহ ২১ জনের মামলার কার্যক্রম পেছাল

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

  • জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিচার
  • মানবতাবিরোধী অপরাধ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন পৃথক দু’টি মামলার বিচারিক কার্যক্রম পিছিয়েছে। এর মধ্যে র‌্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম ও নির্যাতনের মামলায় ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ এবং চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিহতের ঘটনায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ চারজনের মামলার যুক্তিতর্ক পেছানো হয়েছে।

গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ট্রাইব্যুনাল-২ রাষ্ট্রপক্ষের সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে শুনানির নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

র‌্যাবের টিএফআই সেলে দীর্ঘ সময় ধরে গুম ও অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৪ জুন দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। গতকাল এ মামলায় পঞ্চম সাক্ষীর জবানবন্দী ও জেরার দিন নির্ধারিত ছিল। তবে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সাক্ষী যথাসময়ে আদালতে উপস্থিত হতে না পারায় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে সময়ের আবেদন করা হয়। ট্রাইব্যুনাল আবেদনটি মঞ্জুর করে নতুন এই তারিখ ঠিক করেন।

এই মামলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে গ্রেফতার হয়ে ঢাকার সেনানিবাসের বিশেষ সাব-জেলে আছেন ১০ জন। তারা হলেন র‌্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো: জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো: কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো: মাহাবুব আলম, কর্নেল কে এম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক কর্নেল মো: মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: সারওয়ার বিন কাশেম।

অন্যদিকে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মামলার অপর সাত আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন। পলাতক অন্যরা হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব:) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক এম খুরশীদ হোসেন ও ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ এবং র‌্যাবের সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব:) মো: খায়রুল ইসলাম। তাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।

অপরদিকে, চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ ও ছয়জনকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন পিছিয়ে আগামী ৭ জুন দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনালের বিচারক প্যানেল এই আদেশ দেন। গতকাল বুধবার মামলায় তৃতীয় দিনের মতো প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করার কথা ছিল। তবে রাষ্ট্রপক্ষ অনিবার্য কারণে তা মুলতবি রাখার জন্য সময় প্রার্থনা করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত ১২ মে শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি তুলে ধরেছিলেন। প্রসিকিউশনের দাবি অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের সরাসরি নির্দেশ, উসকানিমূলক বক্তব্য ও ষড়যন্ত্রের কারণে কুষ্টিয়ায় তৎকালীন সরকারের স্থানীয় নেতাকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হয় এবং এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। গত ২৩ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তার (আইও) জেরার মধ্য দিয়ে এই মামলায় মোট ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের ধাপ শেষ হয়।

এই মামলার চার আসামির সবাই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। মাহবুবউল আলম হানিফ ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা।

আদালতের নথি অনুযায়ী, গত বছরের ৫ অক্টোবর এই আসামিদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরদিন ৬ অক্টোবর আদালত অভিযোগ আমলে নেন এবং গত বছরের ২ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২।