অস্বীকার বিমান কর্তৃপক্ষের

ঢাকা বিমানবন্দরে ১৫০ হজযাত্রীর লাগেজ কেটে চুরির অভিযোগ

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৫০ হজযাত্রীর লাগেজ কেটে মালামাল চুরির অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগকে সত্য নয় বলে দাবি করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ।

গতকাল এক হজযাত্রীর ছেলে কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ^বিদ্যালয়ের আবহাওয়াবিদ ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ ফেসবুক পোস্টে হাজীদের লাগেজ কাটার বিষয়ে অভিযোগ করেন। পোস্টের সাথে তিনি লাগেজ কাটার একটি ছবিও যুক্ত করেন।

ফেসবুক পোস্টে তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে লেখেন, আপনি কি জানেন যে আজ রাত ৩টার সময় পবিত্র হজ শেষে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে যে ৪১৯ জন হাজী দেশে ফিরেছেন তাদের মধ্যে প্রায় ১৫০ জনের লাগেজ কেটে মালামাল বের করে নিয়েছে ঢাকা বিমানবন্দরের ঈমানদার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা? এই ১৫০ জন হতভাগ্য হাজীর মধ্যে আমার আব্বাও ছিল একজন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ২০২৬ সালের হজফ্লাইট চালুর দিনে আপনি হজগামী যাত্রীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন সামান্য অব্যবস্থাপনার জন্য। সেই সাথে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে আগামী বছর থেকে হজের প্রথম ফ্লাইট থেকেই কোনো অব্যবস্থাপনা থাকবে না। জুন মাসের ১ তারিখ থেকে হজ শেষে হাজী সাহেবরা দেশের ফেরা শুরু করেছেন। কোরবানির ঈদ পাঁচ দিন আগে শেষ হয়ে গেলেও বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কর্মরত চোরদের নতুন করে ঈদ শুরু হয়েছে। এই ঈদ রোজার ঈদ না কিংবা কোরবানির ঈদও না। এই ঈদ হলোও চুরির ঈদ; হাজীদের লাগেজ কাটার ঈদ। পবিত্র হজ শেষ হাজীরা নিজেদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের জন্য সামান্য উপহার হিসেবে যে উপহারসামগ্রী নিয়ে এসেছে সেই উপহার সামগ্রীগুলো চুরির ঈদ। তিনি আরো লেখেন, আমার বাবাকে আমি মানা করেছিলাম; মূল্যবান কোনো-কিছু কেনা-কাটা না করার জন্য। এই জন্য হয়তো বেঁচে গেছে। আমার বাবার লাগেজ থেকে খুব অল্প-দামি কিছু জিনিস চুরি হয়েছে। আমার আব্বা তার ছোট নাতনির জন্য স্বর্ণের জিনিস ক্রয় করতে চেয়েছিল; আমি মানা করেছিলাম তাই হয়তো আমার পরিবার বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে। আমি ভাবছি সেসব হতভাগ্য দাদা-দাদী কিংবা নানা-নানী যার তাদের নাতি-নাতনির জন্য মূল্যবান জিনিস ক্রয় করে এনেছে ও যাদের লাগেজ কেটে ওই সব জিনিস চুরি হয়ে গেছে সেই হাজী সাহেব ও সাহেবানদের মানসিক অবস্থা কেমন হয়েছে যখন দেখতে পেয়েছে তাদের লাগেজ কেটে প্রিয়জনদের জন্য আনা ওই সব উপহারসামগ্রী চুরি করে নিয়েছে বিমানবন্দরে কর্মরত চোরেরা? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার প্রতি বিনীত অনুরোধ, যে হাজী সাহেবরা আজ থেকে ফিরবে তাদের লাগেজগুলো রক্ষার ব্যবস্থা করুন।

এ ধরনের অভিযোগের পর ফেসবুক পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। প্রথম পোস্টের তিন ঘণ্টা পর ঢাকা বিমানবন্দরে হাজীদের লাগেজ চুরির ঘটনার আপডেট দিয়ে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস টিমের সদস্য ছোট ভাই কে এম নাজমুল হক ঢাকা বিমানবন্দরে হাজীদের লাগেজ চুরির ঘটনাটি আমার ফেসবুক স্ট্যাটাস দেখার সাথে-সাথে ধর্মমন্ত্রী ও বিমান পরিবহন মন্ত্রীকে অবহিত করেছে। আমাকে অবাক করে দিয়ে সৌদি আরবের মক্কা শহর থেকে নিজে ফোন দিয়েছেন বাংলাদেশ সরকারের ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। উনি আমার কাছে পুরো ঘটনা শুনে দুঃখ প্রকাশ করেছেন ও সেই সাথে হাজীদের লাগেজ চুরির দুঃসংবাদ শুনে খুবই লজ্জিত হয়েছেন। উনি আমাকে জানিয়েছেন, উনি উনার মন্ত্রণালয় ও সরকারের অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলে আজ রাত থেকেই হাজীদের লাগেজ চুরি প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। সেই সাথে মন্ত্রী জানিয়েছেন, উনি নিজে আমার আব্বার সাথে কথা বলে লাগেজ চুরির জন্য দুঃখ প্রকাশ করবেন।