শিশুসহ প্রাণ গেল ১৪ জনের

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

দেশের সাত জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিশুসহ মোট ১৪ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরো ১১ জন। এরমধ্যে নাটোরে সিংড়ায় পৃথক দুর্ঘটনায় চারজন, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি ও বাঁশখালিতে চারজন, জয়পুরহাটের কালাইয়ে শ্যালক-দুলাভাই, পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় কিশোর পর্যটক, পিরোজপুরের কাউখালীতে পাদুকা ব্যবসায়ী, ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে সিএনজি অটোরিকশা চালক এবং কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে রাস্তার পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় আটোরিকশা চাপায় এক শিশু নিহত হয়েছে।

কালাইয়ে নিহত ২

কালাই (জয়পুরহাট) সংবাদদাতা জানান, জয়পুরহাটের কালাই থেকে আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে নিশ্চিন্তা-শিরট্রী আঞ্চলিক সড়কের খড়িকাটা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে নিশ্চিন্তা-শিরট্রী আঞ্চলিক সড়কের খড়িকাটা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- কালাই উপজেলার সরাইল গ্রামের তাজুল ইসলাম খন্দকারের ছেলে ইমন সরকার (২৮) এবং চাচাতো শ্যালক হারুঞ্জা গ্রামের সামছুল ইসলামের ছেলে ফেরদৌস (১৩)। আহত হয়েছেন ইমনের স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদ উপলক্ষে শালাইপুর আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেলে করে রওনা হন ইমন সরকার, স্ত্রী সুরাইয়া ও শ্যালক ফেরদৌস। পথে খড়িকাটা এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে ছিটকে পড়ে। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যানের চাকায় পিষ্ট হয়ে ইমন সরকার ও ফেরদৌস ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত হন সুরাইয়া আক্তার।

গফরগাঁওয়ে সিএনজি চালক নিহত

গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা জানান, ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে প্রাডো গাড়ির সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে সিএনজি অটোরিকশার চালক নিহত হয়েছেন। গত রোববার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার গফরগাঁও-ভালুকা সড়কের পাঁচুয়া রাবেয়া উচ্চবিদ্যালয় সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সিএনজি চালকের নাম মো: সালাহউদ্দিন (৩৫), বাড়ি কিশোরগঞ্জের নিকলীর চামড়াঘাট এলাকায়। তিনি ভালুকায় মুচাভিটা এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদ শেষে পরিবারসহ যাত্রী নিয়ে ভালুকায় বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে হোসেনপুর থেকে রওনা হয়েছিলেন চালক সালাহউদ্দিন। পথে গফরগাঁওয়ের পাঁচুয়া এলাকায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি প্রাডো গাড়ির সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে সিএনজি অটোরিকশাটি দুমড়ে মুচড়ে যায় এবং চারজন গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে ময়মনসিংহ যাওয়া পথে চালক সালাহউদ্দিন মারা যান।

সিংড়ায় চারজনের মৃত্যু

সিংড়া (নাটোর) সংবাদদাতা জানান, নাটোরের সিংড়ায় ট্রাকচাপায় তিন মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সকালে মহাসড়কের সিংড়ার বন্দর আমতলা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন নাটোর সদরের ইসলামবাড়ি গ্রামের মতালিব হোসেনের ছেলে মুক্তার হোসেন হীরা (৩২) ও লালপুর উপজেলার সাধুপাড়া গ্রামের মাজেদুল ইসলামের ছেলে জীবন (১৮) তারা ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ সময় বাইকের অপর আরোহী সাইফুল ইসলামকে (২৬) গুরুতর আহত অবস্থায় রামেক হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ দিকে রোববার রাত সাড়ে ৮টায় উপজেলার পুন্ডরী গ্রামীণ সড়কে একটি অজ্ঞাত বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আসমা খাতুন (৪৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার কলম ইউনিয়নের পুন্ডরী গ্রামের আজিম উদ্দিনের মেয়ে।

ফটিকছড়িতে বাবা-ছেলে নিহত, বাসে আগুন

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে সরকারি পরিবহন সংস্থা ‘বিআরটিসি’ বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা ও ছেলে নিহত হয়েছেন।

গতকাল সকাল ৯টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের আমতল এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন ফটিকছড়ি উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের আমতল এলাকার মোহাম্মদ শাহাজাহান (৪৫) এবং ছেলে মোহাম্মদ আরিফ (২২)।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকাল ৯টার দিকে খাগড়াছড়ি থেকে ছেড়ে আসা বিআরটিসির একটি বাস বেপরোয়া গতিতে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় বাসটি পাইন্দং ইউনিয়নের আমতল এলাকায় পৌঁছালে প্রথমে দু’টি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে দেয়। এর পরপরই সামনে থাকা একটি মোটরসাইকেলকে পেছন থেকে প্রচণ্ড গতিতে ধাক্কা দেয়। মুহূর্তেই মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে বাসের নিচে ঢুকে যায় এবং ঘটনাস্থলেই আরোহী বাবা ও ছেলের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পর পরই স্থানীয় জনতা ও পথচারীরা উত্তেজিত হয়ে বিআরটিসি বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় ক্ষুব্ধ জনতা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। এতে শত শত দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ি আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

বাঁশখালীতে দুইজনের মৃত্যু

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, বাঁশখালীতে পিকআপের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে সিএনজি চালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। গতকাল সকাল সাড়ে ৭টায় বাঁশখালী প্রধান সড়কের শীলকূপ মনছুরিয়া বাজারের উত্তর পাশে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় আরো দুইজন আহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন কক্সবাজারের মহেশখালীর শাপলাপুর ইউপির মৃত জালাল আহমদের ছেলে বাহাদুর আলম (২৮) ও একই উপজেলার আবুল বশরের ছেলে মোহাম্মদ নোমান (৩৫)। তারা ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পেকুয়াগামী একটি পিকআপের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে চট্টগ্রামগামী অটোরিকশার ঘটনাস্থলেই আরোহী বাহাদুর আলমের মৃত্যু হয়। আহত তিনজনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। চমেক হাসপাতালে নেয়ার পথে গুরুতর আহত মোহাম্মদ নোমানেরও মৃত্যু হয়।

কুয়াকাটায় পর্যটকের মৃত্যু

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, পটুয়াখালীর পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটায় ভ্রমণে এসে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় জিসান (১৭) নামে এক কিশোর নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো দুই পর্যটক ও এক পথচারী গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুয়াকাটার মেরিন ড্রাইভ সড়কের মাঝিবাড়ি সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত জিসান শরীয়তপুরের পালং থানার কাসাপুর এলাকার আমির হোসেনের ছেলে। আহতরা হলেন রাব্বি (১৮), আবির (১৬) এবং পথচারী মিম (১৮)। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের ছুটিতে ঘুরতে সোমবার সকালে শরীয়তপুর থেকে তিন বন্ধু জিসান, রাব্বি ও আবির কুয়াকাটায় আসেন। পরে তারা একটি মোটরসাইকেলে মেরিন ড্রাইভ সড়ক হয়ে লেম্বুরবনের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে মাঝিবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে রাস্তা পারাপারের সময় এক পথচারীকে বাঁচাতে গিয়ে মোটরসাইকেলটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন চালক। একপর্যায়ে মোটরসাইকেলটি সড়কের পাশের একটি গাছের সাথে সজোরে ধাক্কা লাগে।

দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা তিন বন্ধু ও পথচারীসহ চারজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে কুয়াকাটা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোটরসাইকেল চালক জিসানকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

কাউখালীতে ব্যবসায়ী নিহত

কাউখালী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা জানান, পিরোজপুরের কাউখালীতে বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় মো: শহিদুল ইসলাম (৬৮) নামে এক পাদুকা ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরো একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের উজিয়ালখান এলাকায় সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে খালের ওপারের ব্রিজ সংলগ্ন সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শহিদুল ইসলাম উপজেলার উজিয়ালখান এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রবের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তিনি সড়কের পাশে অবস্থান করছিলেন। এ সময় অজ্ঞাত নম্বরের একটি মোটরসাইকেল বেপরোয়া গতিতে এসে তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতরভাবে আহত হন।

স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তিনি মারা যান।

হোসেনপুরে শিশুর মৃত্যু

হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় আলিফ (১২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে আরো এক শিশু।

রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার হোগলাকান্দি বোর্ড বাজার এলাকায় হোসেনপুর-কিশোরগঞ্জ সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আলিফ উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের পিপলাকান্দি গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বোর্ড বাজারের একটি চা দোকানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল আলিফ। হঠাৎ পিছনের দিক থেকে অটোরিকশা এসে তাকে চাপা দেয়। এতে দুজন গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলিফকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর শিশুকে চিকিৎসার জন্য নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।