নিজস্ব প্রতিবেদক
সাত কলেজের জন্য প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ জারির দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো রাজধানীতে অবরোধ কর্মসূচি পালান করছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১টার দিকে সরকারি বাঙলা কলেজ ও তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা দাবি আদায়ের জন্য টেকনিক্যাল মোড়ে অবস্থান নেন। এ সময় ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। অপর দিকে সায়েন্স ল্যাব মোড়ে অবস্থান নেয় ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা। ফলে সায়েন্স ল্যাব মোড় এলাকায়ও যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে পথচারীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
সাইন্স ল্যাব মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, সড়ক বন্ধ করে শিক্ষার্থীরা নিজেদের দাবি আদায়ে নানা সেøাগান দিচ্ছেন। এতে তীব্র ও দীর্ঘ যানজটে আটকে থেকে চরম ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে অনেককে। এ সময় সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘রাষ্ট্র তোমার সময় শেষ, জারি করো অধ্যাদেশ’, ‘আমি কে তুমি কে, ডিসিইউ ডিসিইউ’ এমন সব সেøাগান দিতে থাকে।
এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে বাসের কাচ ভেঙে যায় এবং অন্তত দু’জন ঢাবি শিক্ষার্থী আহত হন। ক্ষতিগ্রস্ত বাসটির নাম ‘অর্জন’। এটি হাজারীবাগে অবস্থিত লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস রুটে শিক্ষার্থীদের আনা-নেয়া করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর রফিকুল ইসলাম জানান, আন্দোলনকারীদের ছোড়া ইট-পাটকেলে বাসটির দু’টি জানালার কাচ ভেঙে যায় এবং বাইরের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় আমাদের দু’জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিকল্প রুটে বাস চলাচলের নির্দেশ দেয়া হয়।
পথচারীদের অভিযোগ, যার যেখানে খুশি রাস্তা আটকাচ্ছে। মানুষের জীবন অতীষ্ঠ হয়ে গেছে। দেখার কেউ নেই। সরকারের কাছে অনুরোধ, দ্রুত মানুষের এই ভোগান্তি নিরসনে ব্যবস্থা নিন।
শিক্ষার্থীরা জানান, আমাদের দাবি স্পষ্ট, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ অনতিবিলম্বে জারি করতে হবে। আমরা আর কোনো কালক্ষেপণ মানবো না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বো না।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, আগামী ১৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন ২০২৫’ এর অনুমোদন দিতে হবে এবং একই সাথে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি করতে হবে। এ ছাড়াও স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলোচনা শেষে প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় খসড়াটি হালনাগাদ করেছে। সর্বশেষ গত ৭ ও ৮ ডিসেম্বর শিক্ষা ভবন অভিমুখে টানা অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে শিক্ষার্থীদের সাথে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে ডিসেম্বরের মধ্যেই আনুষঙ্গিক সব কার্যক্রম শেষ করে জানুয়ারি মাসের প্রথম দিকে অধ্যাদেশ জারির বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল।
সাত কলেজের সঙ্কট নিরসনে ২০১৭ সাল থেকেই নানা পদক্ষেপ নেয়া হলেও শিক্ষার্থীরা পূর্ণাঙ্গ স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে অনড়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশের পরিমার্জিত খসড়া গত মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
খসড়াটি দ্রুত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নীতিগত সম্মতি ও আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে উপদেষ্টা পরিষদে উত্থাপন করা হবে। নতুন প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, কলেজগুলোর নিজস্ব বৈশিষ্ট্য বজায় রেখেই অনেকটা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে এই নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সংযুক্ত থেকে কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তবে শিক্ষার্থীরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা তথা অধ্যাদেশ দাবি করছেন।



