বর্ণাঢ্য আয়োজনে ঢাবিতে দিনব্যাপী ছাত্রশিবিরের নবীনবরণ

Printed Edition

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে দিনব্যাপী নবীনবরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটোরিয়ামে তিনটি পৃথক সেশনে এ আয়োজন সম্পন্ন হয়। নবীন শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রতিটি সেশনই ছিল প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর।

সকাল সাড়ে ৯টায় কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রথম সেশন, দুপুর আড়াইটায় বিজ্ঞান অনুষদ ও সংশ্লিষ্ট ইনস্টিটিউটগুলোর শিক্ষার্থীদের নিয়ে দ্বিতীয় সেশন এবং সন্ধ্যা ৭টায় ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের শিক্ষার্থীদের নিয়ে তৃতীয় সেশন অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীরা পূর্বনির্ধারিত গুগল ফর্মের মাধ্যমে নিবন্ধন করে অনুষ্ঠানে অংশ নেন। দিনব্যাপী প্রতিটি সেশনে নবীনদের মধ্যে আল-কুরআন, ব্যাগ, নোটপ্যাড, কলম ও চাবির রিংসহ বিভিন্ন উপহারসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি শহীদ ওসমান হাদীর রূহের মাগফিরাত কামনা করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে পরিণত হোক- এটাই তাদের প্রত্যাশা। ডাকসু নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সংগঠনটি কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডাকসুর ভিপি ও ছাত্রশিবিরের প্রকাশনা সম্পাদক মো: আবু সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই বিপ্লবের আগে ক্যাম্পাসে গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতির কারণে শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের নিপীড়নের শিকার হতেন। ৫ আগস্টের পর সেই কাঠামো ভেঙে নতুন পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। একইসাথে শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় পাশে থাকার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন।

সকালের সেশনে প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. শিব্বির আহমেদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসেন এবং ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও ডাকসুর এজিএস মুহা: মহিউদ্দিন খান। বক্তারা শিক্ষার্থীদের সৎ, দক্ষ ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।

দুপুরের বিজ্ঞান অনুষদের সেশন কারি আব্দুল্লাহ আল জাওয়াদের কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয়। পরে সঙ্গীত পরিবেশন করে প্রবাহ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদ। স্বাগত বক্তব্য দেন ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মু: সাজ্জাদ হোসাইন খান। তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ক্যাম্পাসে নতুন পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ও অধিকার রক্ষায় সংগঠনটি কাজ করবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডাকসুর জিএস ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ বলেন, বর্তমান ডাকসু বাজেট সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি ছাত্রীদের জন্য আলাদা জিমনেশিয়াম চালু, শনিবারের বাসসেবা, মসজিদ সংস্কার, রিডিংরুমে এসি স্থাপন এবং মাতৃত্বকালীন ছুটি চালুর মতো উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি আরো বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পরও ক্যাম্পাস দখল করতে পারেনি- এটিই বর্তমান ডাকসুর অন্যতম সাফল্য।

বিজ্ঞান অনুষদের সেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা। তিনি বলেন, একটি কার্যকর ছাত্র সংসদ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বদলে দিতে পারে। গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

এ সেশনে আরো বক্তব্য দেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলাম, ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: আব্দুর রব, বুয়েটের অধ্যাপক ড. মো: ফখরুল ইসলাম এবং শিক্ষাবিদ মো: শরফুদ্দিন। বক্তারা গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন, উচ্চশিক্ষা, ব্র্যান্ড নির্মাণ এবং মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন জীবন গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সন্ধ্যায় ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত তৃতীয় সেশনে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের চেয়ারম্যান ড. এইচ এম মোশাররফ হোসেন, খাস ফুডের সিইও হাসিবুল মুস্তফা আরমান এবং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। তারা শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, উচ্চশিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।