এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর)
যশোরের চৌগাছায় একই জমিতে দশ ফসল চাষ করে লাভবান হচ্ছেন জুমারুল ইসলাম। সমন্বিত পদ্ধতিতে ফসল চাষ করে রীতিমতো সাড়া ফেলেছেন চৌগাছা পৌর এলাকার বেড়বাড়ী গ্রামের জুমারুল ইসলাম।
এর আগে সমন্বিত কৃষি পদ্ধতির উন্নয়ন ঘটিয়ে গেল বছরে এক জমিতেই দুই ফসল, পরের বছর পাঁচ ফসল চাষ করেন তিনি। এ বছর একই জমিতে দশ ফসলের চাষ করেছেন। তার জমিতে এখন লেবু, লিচু ও আম, সেই সাথে মরিচ, লালশাক, পুঁইশাক, ঢেড়স, ওল, কচু ও কলাগাছ একই সাথে বেড়ে উঠছে। এসব ফসল থেকে লাভের আশা করছেন তিনি।
জুমারুল পেশাই বাস চালক। তিনি বাড়ির পাশেই এক বিঘা পতিত জমিতে তিন বছর আগে হলুদের সাথে সাথী ফসল হিসেবে মরিচের আবাদ করেছিলেন। পরের বছর ৩৩ শতাংশ জমিতে দুই ফসলের সাথে যোগ করেন ওল ও কচু। এ বছর ওই জমিতে রকমারি ফসলের মধ্যে কলা যোগ করে ১০ ফসল চাষ করেছেন। তার জমিতে এখন লালশাক, পুঁইশাক, মরিচ, ভেণ্ডি, ওল, মরিচ ও কচুর মুখী চাষ রয়েছে। এ ছাড়াও কলা, লিচু ও আম গাছও আছে।
জুমারুল ইসলাম বলেন, একই খরচ ও সময়ে ফসল উৎপাদন হচ্ছে। এক সাথে ১০ ফসল করার সুবিধা হলো, এর মধ্যে কোনো ফসলে লোকসান হলে অন্য ফসল থেকে তা পুষিয়ে নেয়া যায়। উৎপাদনও ভালো পাওয়া যায়। ফলে লোকসানের কোনো সম্ভাবনা থাকে না। এখন পুঁইশাক, লালশাক ও মরিচ উঠছে বাজারে দামও ভালো পাচ্ছি। এরপরে উঠবে, ওল, তারপর কচুর মুখী শেষে থাকবে কলা। এ বছর তিনি খরচ বাদে সবজি থেকে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা আয়ের আশা করছেন।
এলাকার কৃষক আরমান আলী আগামীতে এ সমন্বিত চাষ করতে চান। পরামর্ম নিত এসেছেন কৃষক শাহিনুর রহমানও। আগামী মৌসুমে সমন্বিত পদ্ধতিতে একাধিক ফসলের আবাদ করার পরিকল্পনা তারও। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুশাব্বির হোসেন বলেন, জুমারুলেরমতো এভাবে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার করলে দেশের প্রতি ইঞ্চি জমি থেকে ফসল উৎপাদন করা সম্ভব। এ উপজেলার মাটি অত্যন্ত উর্বর। এ মাটিতে সব ধরনের আবাদ করা যায়। এ ছাড়া এ উপজেলার কৃষকরা ভালো ফসল ফলাতে অনেক আগ্রহী ও যতœবান। কৃষকদের আমরা সব ধরনের পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করছি। এক সাথে একাধিক ফসল আবাদ করলে রোগবালাই কম হয়। আরো সুবিধা হলো একই খরচে সব ফসল উৎপাদন করা যাচ্ছে। তাছাড়া একটাতে লোকসান হলে অন্যটি থেকে পুষিয়ে নেয়া যায়। ফলে চাষির লোকসানের আশঙ্কা কম থাকে।



