নির্বাচনী সহিংসতা বাড়ছে : গাজীপুরে প্রার্থী হত্যাচেষ্টা

Printed Edition

আশুলিয়া (ঢাকা) সংবাদদাতা

শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় গ্রুপের পাঁচজন আহত হয়েছে।

গতকাল বিকেলে আশুলিয়ার ধামসোনা ইউনিয়নের শ্রীপুর হাসান কলোনি এলাকায় বিএনপির পার্টি অফিসে এ ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষে আহতরা হলেন- আশুলিয়া থানা জিয়া মঞ্চের সদস্য কিবরিয়া সরকার, তার ছেলে তৌহিদ সরকার, হায়দার, খোরশেদ আলমের ছেলে মোকসেদুর রহমান ও আলম পারভেজ বুলেট। স্থানীয়রা জানান, ঢাকা-১৯ আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা: দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর ব্যানার নিয়ে তার সমর্থক কিবরিয়া ও আলম পারভেজ বুলেটের মধ্যে বাগি¦তণ্ডা হয়। পরে বুলেট তার সহযোগীদের নিয়ে ওই নির্বাচনী অফিস ও একটি চায়ের দোকানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এ সময় তাদের বাধা দিতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় তৌহিদ নামের একজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আশুলিয়া থানার ওসি রুবেল হাওলাদার বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময় ব্যানার ধরাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে, তবে ভাঙচুর এবং লুটপাটের কোনো ঘটনা ঘটেনি। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

গাজীপুর-২ এর ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি জানান, গাজীপুর-২ সংসদীয় আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থীর নির্বাচনী শোভাযাত্রায় বাধা, হামলা ও পরিকল্পিতভাবে হত্যাচেষ্টার অভিযোগসহ ধারাবাহিক সহিংসতার প্রতিবাদে লিখিত অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আলী নাছের খান। গাজীপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো: আলম হোসেনের কাছে গতকাল এ অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়। পরে কার্যালয়ের সামনেই বেলা ২টায় এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট আলী নাছের খান বলেন, গাজীপুর-২ আসনে শাপলাকলি মার্কার নির্বাচনী প্রচারণা পরিকল্পিতভাবে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে এবং এটি সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। তিনি অভিযোগ করেন, ৩১ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী শোভাযাত্রা নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের পোড়াবাড়ী এলাকায় পৌঁছালে ধানের শীষের প্রার্থী এম মঞ্জুরুল করিম রনির প্রচারণার মাইকবাহী অটোরিকশা ইচ্ছাকৃতভাবে শোভাযাত্রার গতিরোধ করে এবং উসকানিমূলক আচরণ শুরু করে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে শোভাযাত্রা রাস্তা পার হয়ে পোড়াবাড়ী বাজারের দিকে অগ্রসর হলে ধানের শীষের স্টিকারযুক্ত প্রাইভেট কার ব্যবহার করে গাড়িচাপা দিয়ে তাকে হত্যা করার চেষ্টা চালানো হয় বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরো বলেন, একই ঘটনায় দ্রুতগতির মোটরসাইকেল ও পরবর্তীতে আরেকটি সাদা প্রাইভেট কার দিয়েও তার ওপর আঘাত হানার চেষ্টা করা হয়। এতে তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও এনসিপি জেলা সদস্যসচিব খন্দকার আল আমিন গুরুতর আহত হন। এর আগে ৩০ জানুয়ারি এরশাদনগর ৫ নম্বর ব্লকের ছোট বাজারে শাপলাকলির প্রচারণায় বাধা দেয়া হয় এবং পোড়াবাড়ী বাজারে স্থাপিত তার নির্বাচনী বিলবোর্ড ছিঁড়ে ফেলা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে যুবশক্তি গাজীপুর মহানগরের সভাপতি মো: তরিকুল ইসলাম বলেন, এসব ঘটনা শুধু একটি দলের ওপর হামলা নয়, বরং পুরো নির্বাচনব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তিনি নির্বাচন কমিশন, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতি অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।