আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ

Printed Edition
আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ
আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ

নাসিম সিকদার

আজ ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এই দিনটি নারীদের অধিকার, মর্যাদা, সমতা ও ক্ষমতায়নের সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে উদযাপিত হয়।

১৯০০ সালের শুরুর দিকে নারীদের শ্রম অধিকার, ভোটাধিকার এবং সামাজিক মর্যাদার দাবিতে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তার ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক নারী দিবসের সূচনা হয়। পরবর্তীতে জাতিসঙ্ঘ ১৯৭৫ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি উদযাপন শুরু করে এবং বিশ্বব্যাপী নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানায়।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি উপলক্ষে র‌্যালি, আলোচনা সভা, সেমিনার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নারী উন্নয়নবিষয়ক নানা কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। সমাজ, রাষ্ট্র, অর্থনীতি, শিক্ষা, চিকিৎসা, সাংবাদিকতা ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।

তবে এখনো বিশ্বের অনেক জায়গায় নারীরা বৈষম্য, সহিংসতা, বাল্যবিবাহ, শিক্ষা বঞ্চনা ও কর্মক্ষেত্রে অসমতার শিকার হন। তাই আন্তর্জাতিক নারী দিবস কেবল উদযাপনের দিন নয়, বরং নারী-পুরুষ সমতা প্রতিষ্ঠা এবং নারীর নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করার জন্য নতুন করে অঙ্গীকার করার দিন।

নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হলে সমাজ ও রাষ্ট্র আরো শক্তিশালী হয়- এই বার্তাই আন্তর্জাতিক নারী দিবসের মূল প্রতিপাদ্য।

‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে বাংলাদেশেও দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারিভাবে বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্থা নানান কর্মসূচি পালন করছে।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অদম্য নারী পুরস্কারের আওতায় বিশেষ অবদান রাখা নারীদের স্বীকৃতি প্রদান, দেশজুড়ে নারী অধিকার, সমতা ও ন্যায়বিচারের লক্ষ্যে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা। একশন এইড বাংলাদেশ ও প্রথম আলোর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় সকল তফসিলি ব্যাংকে নারী দিবস যথাযথ মর্যাদায় উদযাপন করা হবে।

এ বছর বিশ্বব্যাপী ‘গিভ টু গেইন’ (দিয়ে অর্জন) প্রচারাভিযান চালানো হচ্ছে, যা নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠায় পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর জোর দেয়। এই কর্মসূচিগুলোর মাধ্যমে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সমাজে তাদের অসামান্য অবদানকে স্বীকৃতি দেয়া হচ্ছে।

উল্লিখিত প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জেলা ও উপজেলায় স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয়পূর্বক কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানিয়েছে মহিলা অধিদফতর। এ ছাড়া বিভিন্ন অফিস ও সংগঠন দিবসটি পালনে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

বাংলাদেশের দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা বিশ্বের সকল নারীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রতি বছরের মতো এবারো আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান ও প্রদীপ প্রজ্বলন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বেলা ১১টায় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হবে। এবারো একজন কৃতী নারীকে সম্মাননা প্রদান করা হবে। এবার এ সম্মাননা পাচ্ছেন সাংবাদিক মমতাজ বানু।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি প্রতি বছরের মতো এবারো দিবসটি উপলক্ষে কর্মসূচি নিয়েছে। সকাল ১০টায় র‌্যালির মধ্য দিয়ে দিবসটির উদযাপন করবে। ডিআরইউয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পবিত্র মাহে রমজানের কারণে নারী দিবসের অবশিষ্ট অনুষ্ঠান পবিত্র ঈদুল ফিতরের পরে উদযাপন করা হবে।