কাজী খোরশেদ আলম বুড়িচং (কুমিল্লা)
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় বোরো ধান কাটার মৌসুম শুরু হলেও কৃষকদের কপালে স্বস্তির বদলে চিন্তার ভাঁজ দেখা দিয়েছে। অনাকাক্সিক্ষত বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও তীব্র শ্রমিক সঙ্কটে অনেকের পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। অন্য দিকে শ্রমিকের মজুরি বেড়ে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, একজন শ্রমিকের এক দিনের পারিশ্রমিক দিতে বিক্রি করতে হচ্ছে প্রায় দুই মণ ধান।
উপজেলার বেশির ভাগ কৃষক সারা বছরের জীবিকার বড় অংশ নির্ভর করেন বোরো মৌসুমের ওপর। কিন্তু মাঠে সোনালি ধানের শীষ পাকার পরই বৃষ্টিতে তৈরি হয়েছে নতুন সঙ্কট। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে একদিকে পাকা ধান ডুবে যাচ্ছে, অন্য দিকে শ্রমিক সঙ্কটে সময়মতো ধান কাটতে না পেরে বিপাকে পড়ছেন কৃষকরা।
গত ১১ মে ভোরে উপজেলার খাড়াতাইয়া নতুন বাজারে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার দুই পাশে হাতে কাস্তে ও লাঠি নিয়ে শত শত শ্রমিক কাজের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন। তাদের বেশির ভাগই উত্তরবঙ্গের কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, রংপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে এসেছেন।
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী থেকে আসা ষাটোর্ধ্ব শ্রমিক জমির উদ্দিন বলেন, ‘পেটের দায়ে কাজ করতে আসছি। এক হাজার ৪০০ টাকার কমে কাজ করব না। জমিতে হাঁটুসমান পানি থাকলে আরো বেশি লাগবে।’
স্থানীয় কৃষক আব্দুল হামিদ বলেন, বর্তমানে মোটা ধানের বাজারদর মণপ্রতি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা। অর্থাৎ একজন শ্রমিকের এক দিনের মজুরি দিতে দুই মণ ধান বিক্রি করতে হচ্ছে। এর সাথে তিন বেলার খাবার, নাশতা ও অন্যান্য খরচও যোগ হচ্ছে।
আরেক কৃষক মনির হোসেন বলেন, গত বছর যেখানে ৯০০ থেকে এক হাজার টাকায় শ্রমিক পাওয়া যেত, সেখানে এবার মজুরি প্রায় দ্বিগুণ। ধানের দাম কম আর উৎপাদন ব্যয় বেশি হওয়ায় কৃষকরা বড় চাপের মুখে পড়েছেন।
শ্রমিকদের দাবি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে তাদেরও বাড়তি মজুরি দাবি করতে হচ্ছে। উত্তরবঙ্গ থেকে আসতে জনপ্রতি ৯০০ থেকে এক হাজার টাকা ভাড়া গুনতে হয়। আবার ঝড়-বৃষ্টির কারণে পানিতে ও কাদায় কাজ করা অনেক বেশি কষ্টকর।
ময়মনসিংহ থেকে আসা শ্রমিক কামাল বলেন, তিন সন্তান নিয়ে সংসার চালাতে হয়। বেশি মজুরি না পেলে পরিবার চালানো কঠিন।
বুড়িচং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আফরিনা আক্তার বলেন, শ্রমিক সঙ্কট মোকাবেলায় কৃষিতে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, সরকারি ভর্তুকির মাধ্যমে কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে নিচু ও কাদাযুক্ত জমিতে ব্যবহার উপযোগী যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা গেলে শ্রমিক সঙ্কট অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।



