- বিভিন্ন পদে ১১ হাজারের বিপরীতে আবেদন ৫৩ হাজার
- সবচেয়ে বেশি প্রতিযোগিতা কলেজের অধ্যক্ষ পদের জন্য
পদ শূন্য থাকা মাদরাসার সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট পদে যোগ্য প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে না। আগামী ১৮ এপ্রিল সারা দেশের বেসরকারি স্কুল-কলেজ মাদরাসা এবং কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগ দেয়ার জন্য নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য দেশের বিভিন্ন এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১১ হাজার ১৫১টি শূন্য পদের বিপরীতে ৫৩ হাজার ৬৯টি আবেদন জমা পড়েছে। তবে মাদরাসা পর্যায়ে সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট পদে আবেদন জমা পড়েছে মোট পদের চেয়ে অনেক কম। মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতরের দেয়া তথ্যমতে বর্তমানে দেশে বিভিন্ন দাখিল মাদরাসায় সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট পদ খালি রয়েছে এক হাজার চারটি। কিন্তু এই পদের বিপরীতে পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য আবেদন জমা পড়েছে মাত্র ৭৭৪টি। অন্য দিকে কলেজের অধ্যক্ষ পদে আবেদন জমা পড়েছে সবচেয়ে বেশি। সূত্র মতে বেসরকারি এমপিওভুক্ত কলেজের অধ্যক্ষ পদ (৫ম গ্রেড) খালি রয়েছে ১৫৩টি কিন্তু এর বিপরীতে আসন্ন ১৮ তারিখের পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য আবেদন জমা পড়েছে তিন হাজার ৬৮২টি।
এ দিকে মাদরাসার সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট পদে যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে দীর্ঘ দিন মাদরাসাগুলোতে নিয়োগ বন্ধ থাকায় এবং এই পদে আবেদনের যোগ্যতায় ১৮ বছরের অভিজ্ঞতা থাকার শর্ত জুড়ে দেয়ায় আনুপাতিক হারে আবেদন জমা পড়েনি। আবার অনেক প্রতিষ্ঠানে মামলা জটিলতা বা এমপিওভুক্তি নিয়েও সমস্যা থাকায় উপযুক্ত প্রার্থী এখানে আবেদন করেননি।
এ বিষয়ে ঢাকার বাইরের একটি মাদরাসার সুপার জানান, অনেক মাদরাসার প্রধান এখনো জানেনই না কিভাবে অনলাইনে রেজিস্টেশন করে তারপর অধিদফতরের দেয়া শর্ত মোতাবেক ই-রিক্যুজিশন (শিক্ষক চাহিদা) দিতে হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অন্য একটি মাদরাসা সুপার জানান, দেশের প্রায় ১২ হাজার মাদরাসা এখনো অনলাইনে রেজিস্টেশন করতে পারেনি। ফলে তারা এখনো তাদের চাহিদা অধিদফতরকে জানাতে পারেনি। অবশ্য এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান জানান, মোট আবেদনকারী ৫৩ হাজার হলেও একজন প্রার্থী একাধিক পদে আবেদন করেছেন। ফলে আবেদনের সংখ্যা ৫৩ হাজার হলেও ব্যক্তির সংখ্যা অনেক কম হবে। একইসাথে মাদরাসা সুপারের পদের জন্য আবেদন বেশ হওয়ায় অনেকে আর সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট পদের জন্য আবেদন করেননি। এ কারণেও এই সংখ্যা কম হওয়ার কারণ।
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) সূত্র জানায় আগামী ১৮ এপ্রিল তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসম প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে ১১ হাজার ১৫১টির মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান থেকে ৭ হাজার ৯০৮টি, কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের প্রতিষ্ঠান থেকে ১১২টি এবং মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতরের প্রতিষ্ঠান থেকে ৩ হাজার ১৩১টি আবেদন জমা পড়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৫ মার্চ ‘৮ম এনটিআরসিএ নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৬ (সংশোধিত)’ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এই বিজ্ঞপ্তির আলোকেই ৫৩ হাজার ৬৯ জন প্রার্থী আবেদন করেছেন। তার মধ্যে পুরুষ প্রার্থীর সংখ্যা ৪৭ হাজার ৩৫১ জন এবং মহিলা প্রার্থীর সংখ্যা ৫ হাজার ৭১৮ জন। পরীক্ষা গ্রহণের পরবর্তী প্রক্রিয়া সক্রিয়ভাবে চলমান রয়েছে। এ ছাড়া দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক স্বল্পতা রোধে প্রতি বছর দু’টি করে নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে বলেও সূত্র জানায়।
এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান মো: আমিনুল ইসলাম জানান, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য শিক্ষক নিবন্ধন, প্রত্যয়ন ও নিয়োগ সুপারিশ প্রদানের কাজ করছে এনটিআরসিএ। এ পর্যন্ত ১৮টি পর্যায়ে নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন এবং সাতটি নিয়োগ সুপারিশ প্রক্রিয়াকরণের কাজ করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, যদিও ২০১৫-এর পূর্ব পর্যন্ত এনটিআরসির দায়িত্ব কেবল নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের মধ্যে সীমিত ছিল। পরে নিয়োগ সুপারিশ প্রদানের দায়িত্বও অর্পণ করা হয়। এনটিআরসিএ কর্তৃক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর (স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, কারিগরি ও ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা) প্রবেশ পর্যায়ের শূন্যপদ পূরণের লক্ষ্যে সম্পূর্ণ অটোমেশন পদ্ধতিতে সাতটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।



