নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত না হলে রফতানি বাজারে টিকে থাকা কঠিন : কৃষিমন্ত্রী

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

কৃষিকে রফতানিমুখী খাতে রূপান্তর এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছেন কৃষি ও মৎস্য-প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, রাসায়নিক বালাইনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। তাই সময়ের দাবি হলো জৈব বালাইনাশকের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়ানো এবং বালাইনাশক ব্যবস্থাপনাকে আরো বিজ্ঞানভিত্তিক করা।

গতকাল রাজধানীর ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বালাইনাশক কারিগরি উপদেষ্টা কমিটির (পিট্যাক) ৯০তম (বিশেষ) সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো: আব্দুছ ছালামের সভাপতিত্বে সভায় কৃষিসচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ বিশেষ অতিথি ছিলেন। এ ছাড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো: আব্দুর রহিম, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপ, বিএসটিআইসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নিয়ম অনুযায়ী বছরে দুইবার পিট্যাক এবং চারবার সাব-পিট্যাক সভা হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ বিরতির পর এ বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ ২০২৪ সালের নভেম্বরে পিট্যাক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে এ ধরনের সভা নিয়মিত আয়োজন এবং সিদ্ধান্তগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি।

মন্ত্রী বলেন, কৃষিকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। কৃষিকে শিল্পায়িত ও রফতানিমুখী করা গেলে অর্থনীতির ভিত্তি আরো শক্তিশালী হবে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের জন্য প্রথম শর্ত হলো নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন। বিশ্বের অনেক দেশ বাংলাদেশের কৃষিপণ্য আমদানিতে আগ্রহী। কিন্তু তারা জানতে চায় এসব পণ্য তাদের নাগরিকদের জন্য কতটা নিরাপদ। সেই আস্থা অর্জন করতে না পারলে রফতানি সম্প্রসারণ সম্ভব হবে না।

সভায় বিএসটিআইয়ের প্রতিনিধিরা বাজারে থাকা নিষিদ্ধ বালাইনাশক দ্রুত অপসারণ, সব ধরনের বালাইনাশকের মূল্য নির্ধারণ এবং বিদ্যমান আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধনের দাবি জানান।