ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে ১৩ মে। ১৯৮৩ সালের এই দিনে আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা (ফিফা) আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছিল ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ আয়োজন করবে মেক্সিকো। কলম্বিয়া মূল আয়োজক দেশ হিসেবে নির্বাচিত থাকলেও তাদের অর্থনৈতিক সঙ্কট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে আয়োজক হিসেবে নাম প্রত্যাহার করে নেয়। এর পর থেকেই নতুন আয়োজক খুঁজতে শুরু করে ফিফা। শেষ পর্যন্ত ১৩ মে মেক্সিকোর নাম ঘোষণা করা হয়, যা বড় মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে।
১৯৮৬ সালের সেই বিশ্বকাপই পরে ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় আসরে পরিণত হয়। আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে বিশ্ব ফুটবলে অমর হয়ে যান। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল ও ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ এখনো বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম। সেবার ম্যারাডোনার নেতৃত্বে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতে নেয় আর্জেন্টিনা।
মেক্সিকোর জন্যও এটি ছিল ঐতিহাসিক অর্জন। কারণ এর আগে ১৯৭০ সালে দেশটি বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল। ফলে প্রথম দেশ হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ পায় উত্তর আমেরিকার দেশটি। বিশেষ করে মেক্সিকো সিটির বিখ্যাত এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামকে কেন্দ্র করে নতুন করে পরিকল্পনা সাজানো হয়েছিল। সে সময় দেশটির ফুটবল সংস্কৃতি, দর্শক সমর্থন ও অবকাঠামোগত প্রস্তুতি ফিফাকে মুগ্ধ করেছিল।
আয়োজক দেশ পরিবর্তনে বিশ্ব ফুটবলের বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক বিস্তারের নতুন অধ্যায়ও তৈরি করেছিল। মেক্সিকোর সফল আয়োজনের মাধ্যমে লাতিন আমেরিকায় ফুটবলের জনপ্রিয়তা আরো বেড়ে যায়। ফুটবলপ্রেমীরা স্মরণ করেন সেই দিনটিকে, যেদিন দায়িত্ব নিয়ে ইতিহাস রচনা করেছিল মেক্সিকো। আর ফুটবল বিশ্ব পেয়েছিল এক অবিস্মরণীয় বিশ্বকাপ, জন্ম হয়েছিল ম্যারাডোনার কিংবদন্তি অধ্যায়ের।



