সংসদ প্রতিবেদক
শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র পাননি এমন মন্তব্য করে রাষ্ট্রপতি জাতিকে বিভ্রান্ত করেছেন এবং নিজের শপথ ভঙ্গ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াত দলীয় সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী।
গতকাল স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের সমালোচনা করে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, প্রেসিডেন্ট ভাষণ দিয়েছেন। অনেকেই উনাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। আমরা এটার বিরোধিতা করি না, কিন্তু আমরা স্পষ্ট বলতে চাই প্রেসিডেন্ট, আপনি শপথ ভঙ্গ করেছেন! আপনি জাতিকে বিভ্রান্ত করেছেন! আপনি বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগপত্র আপনার কাছে পৌঁছায় নাই। আপনি নাকি সেটা গ্রহণ করেন নাই। তাহলে আপনারা সংসদে বিচার করেন, একজন প্রেসিডেন্ট শপথ নেয়ার পর কীভাবে জাতিকে বিভ্রান্ত করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের ছয় মাস পর বলেন যে, শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র আমার কাছে পৌঁছায় নাই!
তিনি আরও বলেন, যেই প্রেসিডেন্ট শপথ ভঙ্গ করতে পারেন, জাতিকে বিভ্রান্ত করতে পারেন সে আর যেই হোক, প্রেসিডেন্টের চেয়ারকে আমরা সম্মান করি; কিন্তু ব্যক্তি হিসেবে তিনি জাতিকে বিভ্রান্ত করেছেন। ১৭ বছরের নির্যাতিত বিএনপি, জামায়াত, ১১ দলীয় জোট, ছাত্রদল, ছাত্রশিবির আন্দোলন করে যে ফসল নিয়ে এসেছিল, সেই ফসল নেয়ার ক্ষেত্রে একটি ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।
শাহজাহান চৌধুরী বলেন, এবারের নির্বাচনে আনুপাতিক হারে ভোটের সংখ্যার দিক থেকে জাতি জামায়াতে ইসলামীকে স্বীকৃতি দিয়ে দিয়েছে যে আমরা দেশপ্রেমিক। ভোটের হিসাব প্রমাণ করেছে জামায়াত কোনো জঙ্গি সংগঠন নয়। জামায়াতে ইসলামীর ইতিহাস হচ্ছে, যেখানে গণতন্ত্র নস্যাৎ হয়েছে, সেখানে গণতন্ত্র উদ্ধার করার জন্য জামায়াতে ইসলামী আন্দোলন করেছে।
তিনি বলেন, মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান সাহেব যখন আগরতলা ষড়যন্ত্রের মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন, তখন তৎকালীন জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান ডেমোক্র্যাটিক মুভমেন্টের মাধ্যমে তার মুক্তির জন্য আন্দোলন করেছিল। শুধু আন্দোলন নয়, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির জন্য সবচেয়ে বেশি অর্থ জুগিয়েছিল তৎকালীন জামায়াতে ইসলামী।
জামায়াতের সাবেক আমির ও সাবেক এমপি মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে শাহজাহান চৌধুরী বলেন, আজকে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে সংসদে খুঁজে পাই না। তিনি ১০ বছর পার্লামেন্টে ছিলেন। তিনি এই পার্লামেন্টে কাউকে আঘাত দিয়ে কোনো দিন কথা বলেছেন? আজকের কৃষিমন্ত্রী যিনি আছেন, আমার মনে হয় মির্জা ফখরুল ইসলাম ও মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর রেখে যাওয়া কৃষি মন্ত্রণালয়ে উনি সেই ভালো পদক্ষেপগুলোই গ্রহণ করছেন। তাকে (নিজামী) কেন ফাঁসি দেয়া হলো? উনি কি মানবতাবিরোধী অপরাধী ছিলেন?’
দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী এখানে বক্তব্য রেখেছেন। উনার বিরুদ্ধে রাজসাক্ষী কী বলেছিলেন? হত্যা করা দূরে থাক, স্বাধীনতা যুদ্ধের ব্যাপারে, এই মহান পার্লামেন্টে ৯৬ সালে, ২০০১ সালে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারকে আঘাত করে সে রকম কোনো কথা সাঈদী রাখেননি।



