সানমারিনো-বাংলাদেশ প্রীতি ফুটবল

ইউরোপে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ

Printed Edition
সানমারিনো ম্যাচের আগে গতকাল প্রাণবন্ত অনুশীলনে জামাল ভূঁইয়াকে নিয়ে খুনসুটিতে হামজা ও সতীর্থরা  : বাফুফে
সানমারিনো ম্যাচের আগে গতকাল প্রাণবন্ত অনুশীলনে জামাল ভূঁইয়াকে নিয়ে খুনসুটিতে হামজা ও সতীর্থরা : বাফুফে

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে যোগ হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। দ্বিতীয়বারের মতো ইউরোপের মাটিতে কোনো আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচে উড়বে লাল-সবুজের পতাকা। এর আগে ভারতের বিপক্ষে ইউরোপের মাটিতে প্রতি ম্যাচ খেলেছিলো বাংলাদেশ। তবে ইউরোপের কোনো দেশের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ হওয়ায় দারুণ একটি উপল অপো করছে ফুটবলপ্রেমীদের। সানমারিনোর বিপক্ষে ম্যাচের মাধ্যমে ইউরোপের মাটিতে খেলবে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১১টায় শুরু হবে ম্যাচটি।

বাংলাদেশের জন্য এটি শুধু একটি প্রীতিম্যাচ নয়, একাধিক কারণে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে এই ম্যাচ। জাতীয় দল আগে কখনো ইউরোপের মাটিতে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেনি। ফলে নতুন পরিবেশে নিজেদের মানিয়ে নেয়ার সুযোগ পাবে ফুটবলাররা। আর ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট ও বাছাই পর্বের আগে ইউরোপিয়ান প্রতিপরে বিপে খেলার অভিজ্ঞতা দলকে আরো সমৃদ্ধ করবে। একই সাথে বিদেশে দলের মানসিক দৃঢ়তা ও কৌশলগত প্রস্তুতিরও পরীা হবে।

পুরুষদের ফিফা র‌্যাংকিং অনুযায়ী বাংলাদেশ বর্তমানে ১৮১তম আর ২১১তম অবস্থানে সানমারিনো। বিশ্ব ফুটবলে র‌্যাংকিংয়ে তুলনামূলক দুর্বল দল হলেও উয়েফার টুর্নামেন্টে ইউরোপের শীর্ষ দলগুলোর বিপে নিয়মিত খেলে থাকে সানমারিনো। তাই ইউরোপিয়ান পরিবেশ, নতুন কোচের অধীনে দলের প্রস্তুতি এবং বিদেশে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স কেমন হয়, সে দিকেই এখন নজর দেশের ফুটবল সমর্থকদের।

বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলেও পরিসংখ্যান দেখে ম্যাচের ফল অনুমান করা কঠিন। সানমারিনো নিয়মিতভাবে ইউরোপের শক্তিশালী দলগুলোর বিপে খেলায় অভ্যস্ত। ফলে তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কঠিন প্রতিপরে বিপক্ষে খেলার মূল্যবান অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দল।

আজকের ম্যাচকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে দীর্ঘ ভ্রমণের কান্তি কাটিয়ে খেলোয়াড়রা পূর্ণ উদ্যমে প্রস্তুত। নতুন পরিবেশে দ্রুত মানিয়ে নিতে কোচিং স্টাফরাও বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করেছেন। অনুশীলনে ফিটনেস, বল নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণভাগের সমন্বয়ের ওপর জোর দেয়া হয়েছে। দলের সাথে রয়েছেন হামজা চৌধুরী, জামাল ভূঁইয়া, সুমিত সোম এবং জায়েন আহমেদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার। ইতালি ও সানমারিনোর আবহাওয়া এবং ফুটবল সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হওয়ায় ফাহমিদুল ইসলাম দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। স্থানীয় পরিবেশ সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতা দ্রুত মানিয়ে নিতে সহায়তা করতে পারে সতীর্থদের। সব মিলে তাদের উপস্থিতি আরো ভারসাম্যপূর্ণ ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে লাল-সবুজ জার্সিধারীদের।

সানমারিনোর বিপক্ষে ম্যাচটিকে সহজভাবে দেখছেন না বাংলাদেশ দলের নতুন কোচ থমাস ডুলিও। তার মতে, র‌্যাংকিংয়ে পিছিয়ে থাকলেও সানমারিনোকে হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই। তবে দীর্ঘ ভ্রমণের পরও এই ম্যাচের জন্য ভালোভাবেই প্রস্তুতি সেরেছে ফুটবলাররা। নিজেদের সেরাটা দিতে উদগ্রীব খেলোয়াড়রা। প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলে ইতিবাচক ফল অর্জন করাই কোচের মূল ল্য। নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলা এবং সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে প্রথমবার ইউরোপ জয় করার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের।