ক্রীড়া প্রতিবেদক
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) একের পর এক পরিচালক পদত্যাগ করছেন। ২৫ পরিচালকের মধ্যে সাতজনই পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগকারী পরিচালকেরা হলেন- শানিয়ান তানিম, মেহরাব আলম, মনজুর আলম, ফাইয়াজুর রহমান, ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল, আমজাদ হোসেন ও ইশতিয়াক সাদেক। সহকর্মীদের বিদায়েও অবিচল বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
ছয় মাসের মধ্যে এই দুরবস্থা নিয়ে মুখ খুলেন বুলবুল। পরিচালক কমতে কমতে বোর্ড একসময় অল-আউট হয়ে যেতে পারে কি না? জবাবে হাসতে হাসতে বলেন, ‘একটা চেয়ার নিয়ে বসে থাকব। কী করব? যাওয়ার জন্য আমিই হবো শেষ ব্যক্তি।’ আমিনুল অবশ্য বলেছেন, তার নেতৃত্বাধীন বোর্ডের পরিচালকেরা কেন পদত্যাগ করেছেন, তা জানা নেই।
আমিনুল ইসলাম বুলবুলের আমলে রাজনৈতিক কারণে টি-২০ বিশ্বকাপ খেলতে পারেনি বাংলাদেশ, বুলবুলের দাবি, তার ওপর বাইরের শক্তির চাপ ছিল, ‘আমরা ছয় মাসের মতো বোর্ড চালাচ্ছি। একটা দিনের জন্যও শান্তিতে কাজ করতে পারিনি। আমাদেরকে একটা এক্সটার্নাল ফোর্স সব সময় ডিস্টার্ব করেছে, করছে এবং করে চলেছে।’
উদাহরণ হিসেবে আট বছর আগের নারী ক্রিকেটের বিষয়, আগের বোর্ডের কার্যক্রম নিয়ে এই বোর্ডকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে বলে মন্তব্য তাঁর। যে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বুলবুলের বোর্ড দায়িত্ব নিয়েছে, সেটিতে অস্বচ্ছতা ও অনিয়মের অভিযোগে গত ১১ মার্চ পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)।
বুলবুল যোগ করেন, ‘আমি সবকিছু ছেড়ে দিয়ে এখানে এসেছি আমার দেশকে সাহায্য করতে। এখন যদি কোনো কারণে (দায়িত্ব) না থাকে, নো প্রবলেম। আমার আরেকটা পথ দেখে নিতে হবে। তবে আমি দেশের জন্য কাজ করতে চাই।’
তদন্ত কমিটির মুখোমুখি না হওয়া প্রসঙ্গে বুলবুল জানান, সময়ের সাথে সমন্বয় না হওয়ায় সশরীরে উপস্থিত হতে পারেননি, তবে লিখিত জবাব পাঠিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ওঠা কাউন্সিলর মনোনয়নে হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের সাথে আমার সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমেই কাউন্সিলরদের নাম আসার কথা। যখন দেখলাম মাত্র তিনটি নাম এসেছে, তখন আমরা জেলা ও বিভাগগুলোকে আবার চিঠি পাঠিয়ে নাম পাঠাতে বলেছিলাম- এই একটি জায়গাতেই আমার সম্পৃক্ততা ছিল।’



