বিবিসি
ইরান যদি তার পারমাণবিক কর্মসূচি ২০ বছরের জন্য স্থগিত করে, তবে তা মেনে নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে মনে হচ্ছে, ইরানের এই কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধের দাবি থেকে কিছুটা সরে এসেছে ওয়াশিংটন।
এর আগে ট্রাম্প বারবার বলেছিলেন, ইরানকে স্থায়ীভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে হবে এবং দেশটিকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেয়া যাবে না। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি। তবে ট্রাম্প এবার বলেন, এটি ‘সত্যিকার অর্থে ২০ বছর’ হতে হবে। যদিও তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে ব্যাপক হামলা শুরু করে ইসরাইলি ও মার্কিন বাহিনী। তবে সঙ্ঘাত বন্ধের লক্ষ্যে ও আলোচনা এগিয়ে নেয়ার সুবিধার্থে গত মাস থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি কিছু বিক্ষিপ্ত গোলাগুলি সত্ত্বেও মোটের ওপর টিকে আছে। এ সঙ্কটে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। অবশ্য যুদ্ধের অবসানে একে অপরের সাম্প্রতিক প্রস্তাবগুলো প্রত্যাখ্যান করে উভয় পক্ষই এখনো নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, তেহরানের প্রস্তাবে সব রণাঙ্গনে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের কথা বলা হয়েছিল। এর মাধ্যমে লেবাননে তাদের মিত্র হিজবুল্লাহর ওপর ইসরাইলি হামলার দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া ইরানি বন্দরে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার ও ইরানের ওপর আর কোনো হামলা না করার নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছে। বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে বৈঠকের পর ফেরার পথে এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এ বিষয়ে একমত হয়েছে যে তেহরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেয়া যাবে না। ইরানকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে হবে। বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ ওই নৌপথ ইরানের অবরোধের কারণে বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে।
এক সাংবাদিক ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ২০ বছরের জন্য স্থগিত করা যথেষ্ট নয় বলে ইঙ্গিত করলে ট্রাম্প জবাব দেন, ‘২০ বছরই যথেষ্ট। তবে তাদের পক্ষ থেকে শক্ত নিশ্চয়তা থাকতে হবে। অর্থাৎ সত্যিকারের ২০ বছর হতে হবে।’ অবশ্য এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত আর কিছু বলেননি।



