রিটকারীকে জরিমানা

বিভাগীয় কমিশনারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রিট খারিজ

Printed Edition

গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের (গাসিক) সাবেক প্রশাসক ও ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো: শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে দায়ের করা আদালত অবমাননার রিট খারিজ করে রিটকারীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন হাইকোর্ট। একইসাথে আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছেন, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের হয়রানি এবং সরকারি কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই মামলাটি করা হয়েছিল। গত ৭ মে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি মো: মাহবুব উল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গাজীপুর মহানগরীর চতর বাজার এলাকার বাসিন্দা মো: শহিদুল ইসলাম ২০২১ সালে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। তার অভিযোগ ছিল, সড়ক নির্মাণের সময় তার বসতভিটার জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালে আদালতের আদেশ অমান্যের অভিযোগ এনে তিনি আদালত অবমাননার আবেদন দায়ের করেন। এতে তৎকালীন স্থানীয় সরকার সচিব, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এবং সিটি মেয়র জায়েদা খাতুনকে বিবাদি করা হয়। মামলার শুনানির একপর্যায়ে হাইকোর্ট বিভাগীয় কমিশনার ও তৎকালীন গাসিক প্রশাসক মো: শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীকে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি আদালতে হাজিরাও দেন।

শুনানিতে উপস্থাপিত তদন্ত প্রতিবেদন, নথিপত্র ও প্রকল্প-সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনায় আদালত দেখতে পান, মো: শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণের আগেই প্রকল্পের অধিকাংশ কাজ আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করে সম্পন্ন হয়েছিল। এ ছাড়া নির্মাণকাজে বাদির কোনো স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি কিংবা ব্যক্তিগত জমি দখলেরও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সবদিক বিবেচনায় আদালত বলেন, বিভাগীয় কমিশনার বা সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ আদালতের কোনো আদেশ অমান্য করেননি। বরং অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের হয়রানি করার উদ্দেশ্যেই মামলাটি করা হয়েছে। এরপর আদালত রিট আবেদনটি খারিজ করে রিটকারী মো: শহিদুল ইসলামকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

শুনানি শেষে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মেনেই সব কাজ সম্পন্ন করা হয়েছিল। এরপরও মিথ্যা অভিযোগের কারণে বিভাগীয় কমিশনারকে ব্যক্তিগতভাবে আদালতে হাজির হতে হয়েছে। বিষয়টি আদালতের নজরে আসায় আদালত উষ্মা প্রকাশ করেন।’ রায়ের পর প্রতিক্রিয়ায় মো: শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘দায়িত্ব পালনে আমরা সবসময় আদালতের নির্দেশনা ও আইন-কানুন অনুসরণ করি। আদালতের এ আদেশের মাধ্যমে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’

সংশোধনী

গতকাল (১০ মে) দৈনিক নয়া দিগন্তে প্রকাশিত “আসছে জিনোম-এডিটেড জলবায়ু সহিষ্ণু ধান” শীর্ষক সংবাদের সাথে অনিচ্ছাকৃতভাবে ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো: শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর ছবি প্রকাশিত হয়। প্রকৃতপক্ষে ছবিটি ওপরের সংবাদের সাথে প্রকাশিত হওয়ার কথা ছিল। অনাকাক্সিক্ষত এ ত্রুটির জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি।