নেত্রকোনায় জামায়াত এমপির ওপর বিএনপির হামলা

গাড়ি ভাঙচুরের প্রতিবাদ বিক্ষোভ

Printed Edition

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনার পূর্বধলায় নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের এমপি ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মাছুম মোস্তফার ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ সময় দৌড়ে তিনি মসজিদে গিয়ে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেলেও সাথে থাকা বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। পরে তার ব্যবহৃত গাড়িটি ভাঙচুর করা হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়ক পথের আতকাপাড়া নামক স্থানে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সাধারণের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এরই প্রতিবাদে গতকাল দুপুরে জামায়াতে ইসলামী নেত্রকোনা শহরে এক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার মাগরেবের এমপি মাছুম মোস্তফা তার গাড়িতে জ্বালানি তেলের জন্য আতকাপাড়া একটি পেট্রলপাম্পে যান। নামাজের সময় হওয়ায় পাশের নামাজ ঘরে যাওয়ার সময় আকস্মিকভাবে সেখানে ১০-১৫টি মোটরসাইকেলে অন্তত ২৫-২৬ জন সশস্ত্র যুবক এমপির গাড়িতে হামলা ভাঙচুর করতে থাকে। এ সময় তিনি এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাকে ধাওয়া দেয় তখন দৌড়ে তিনি নামাজের ঘরে গিয়ে আশ্রয় নেন। দরজা লাগানোর পরও দরজায় হামলা চালায়। পরে তিনি আত্মরক্ষার্থে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ফোনে জানালে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণের মাঝে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় বইতে শুরু করে।

শনিবার বেলা ২টার সময় স্থানীয় বড় মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে এক বিক্ষোভ মিছিল শহর প্রদক্ষিণ করে পাবলিক হলের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশ করে। জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মাওলানা মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি বদরুল আমিনের সঞ্চালনায় বক্তারা এই ঘটনার বিচারবিভাগীয় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান।

এমপির নিরাপত্তা নেই, সাধারণের নিরাপত্তা কোথায়

এদিকে এ ঘটনার পর শুক্রবার রাতে পূর্বধলা উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক মাছুম মোস্তফা বলেন, একজন নির্বাচিত এমপি হিসেবে যেখানে আমার নিরাপত্তা নেই, সেখানে সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা কোথায়? জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হয়ে বিএনপি প্রার্থী বেপারোয়া আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে সশন্ত্র ক্যাডার বাহিনী দিয়ে এই হামলা চালায়। মসজিদে ঢুকে আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে সেখানেও হামলা চালায়। প্রায় ঘণ্টাখানেক অবরুদ্ধ অবস্থায় মুসুল্লিরা আমাকে রক্ষা করেন। এ সময় সন্ত্রাসীরা আমার ব্যবহৃত গাড়ি ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে, আমার সফরসঙ্গী কয়েকজন আহত হন।

ঘটনার সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি আরো বলেন, ভিত্তি প্রস্তর শেষে পূর্বধলা আসার পথে এসপি, ইউএনও, ডিএসবি এবং ডিজিএফআইসহ সংশ্লিষ্টদের জানানোর পরও তারা কেউ এ নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এতে কি প্রমাণ করে ? প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের এমপি হওয়াই কি আমার অপরাধ?

মামলায় ১২৩ আসামি, গ্রেফতার ৯

এমপি মাছুম মোস্তফা ওপর সশস্ত্র হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় পূর্বধলা থানায় মামলা হয়েছে। মাছুম মোস্তফার ব্যক্তিগত সহকারী মো: আল আমিন বাদী হয়ে এই মামলা করেছেন। মামলায় উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী আবু তাহের তালুকদারকে প্রধান আসামি করে ৬০ জনের নাম উল্লেখসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের মোট ১২৩ জনকে আসামি করা জয়েছে।

পূর্বধলা থানার ওসি মো: দিদারুল ইসলাম গতকাল বিকেলে নয়া দিগন্তকে জানান, ইতোমধ্যে ৯ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে, অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শিগগিরই অন্যদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।