ইশতেহার বাস্তবায়নে নেতাদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

Printed Edition
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তেজগাঁওয়ে তার কার্যালয়ে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কলেজছাত্র ওয়াকিমুল ইসলামের উদ্ভাবিত স্মার্ট কারে চড়ে তাকে উৎসাহ দেন  : পিআইডি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তেজগাঁওয়ে তার কার্যালয়ে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কলেজছাত্র ওয়াকিমুল ইসলামের উদ্ভাবিত স্মার্ট কারে চড়ে তাকে উৎসাহ দেন : পিআইডি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচনের আগে আমরা মানুষকে বলেছিলাম সুশাসন দিব, শিক্ষার সুন্দর পরিবেশ দিব, নিরাপত্তা দিব। আমরা মানুষকে নিয়ে যখন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলাম তখন বলেছিলাম, আমাদের ওপরে যে রকম অত্যাচার নির্যাতন, গুম খুনের শিকার হয়েছে সেটি থাকবে না। আমরা চাই দেশে এমন একটি রাজনৈতিক পরিস্থিতি হোক যেখানে আমরা ডিবেট করব, কথা বলব। এরকম পরিস্থিতি আমরা তৈরি হতে দেব না, যেগুলো আমরা করতে চেয়েছিলাম সেগুলোর বাস্তবায়নে সমস্যা হয়। গতকাল শনিবার সকালে বিএনপিসহ তিনটি অঙ্গসংগঠনের জেলা নেতাদের মতবিনিময় সভায় সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে দলের মাঠ নেতাদের সহযোগিতা চেয়ে তারেক রহমান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত এই ম্যানিফেস্টোটি ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ম্যানিফেস্টো। নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পর এবং ফলাফল প্রকাশের পরে আমরা সরকার গঠন করার পরে এই ম্যানিফেস্টোটি আমাদের সরকারের তথা বাংলাদেশের জনগণের ম্যানিফেস্টোতে পরিণত হয়েছে। কারণ ৫২ শতাংশ মানুষ যারা আমাদের ভোট দিয়েছে, তারা এই ম্যানিফেস্টোর পক্ষে রায় দিয়েছে। কাজেই এই ম্যানিফেস্টোতে আমরা যা যা বলেছি, আমাদের সর্বোচ্চ দিয়ে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে এই ম্যানিফেস্টোর বাস্তবায়ন করার জন্য।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনে আমরা মানুষকে বলেছিলাম আমরা এখন একটি দেশ তৈরি করতে চাই যেখানে নারী-পুরুষ-শিশু সবাই নিরাপদে রাস্তায় চলতে পারবে। আমরা মানুষকে নিয়ে যখন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমরা আন্দোলন করেছিলাম তখন আমরা বলেছিলাম যে, আমাদের ওপরে যে রকম অত্যাচার নির্যাতন হয়েছে, যে রকম গুম খুনের শিকার হয়েছে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা, সে রকম আর হতে দিব না।

তিনি বলেন, যুদ্ধ একটি শেষ হয়েছে, এখন আরেকটি যুদ্ধ শুরু হয়েছে। কী সেই যুদ্ধ? সেই যুদ্ধটি হচ্ছে আমরা মানুষের কাছে যে কমিটমেন্ট দিয়েছিলাম সে কমিটমেন্টগুলোর বাস্তবায়ন করা।

তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আপনারা মাঠে ছিলেন। আমি বলেছিলাম যে, নির্বাচনটি হবে কঠিন। আপনারা প্রত্যেকেই পরে সেটা অনুভব করেছিলেন। মানুষ আমাদের দলের পক্ষে, আমাদের ম্যানিফেস্টোর পক্ষে আমাদেরকে সমর্থন দিয়েছে। তিনি বলেন, যে সরকারটি গঠন হয়েছে আমরা কী বলি? আমরা বলি বর্তমান সরকার বিএনপি সরকার। অর্থাৎ সরকার ঠিকই আছে। কিন্তু বিএনপি সরকার। সে জন্য বিএনপি যদি সহযোগিতা না করে অনেক ক্ষেত্রেই সরকার সফল হতে পারবে না। বিএনপির সফলতা তখনই নির্ভর করছে যখন আপনারা এখানে উপস্থিত প্রত্যেকটি মানুষ এবং আপনারা যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারা সরকারের পেছনে এসে না দাঁড়ান। এর বাইরেই হলে আমরা সরকারকে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে নিয়ে যেতে পারব না। সে জন্যই উপস্থিত সব নেতৃবৃন্দ আপনাদের সহযোগিতা করতে হবে।

গতকাল বেলা পৌনে ১১টায় ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দের এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দলের চেয়ারম্যান ছাড়াও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বক্তব্য রাখেন।

দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে সভায় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বেগম সেলিমা রহমান ও এ জেড এম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। ১২ ফেব্রুয়ারি এয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পরে দলের মাঠপর্যায়ের নেতাদের সাথে চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এটি প্রথম মতবিনিময় সভা।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দেশকে ধ্বংসস্তূপ থেকে টেনে তোলাই বিএনপির কাছে নতুন চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আপনারা বড় রকমের যুদ্ধ শেষ করে এসেছেন। সেই যুদ্ধটি হচ্ছে দেশের মানুষকে রক্ষা করার দেশকে রক্ষা করার এবং গণতন্ত্রকে রক্ষা করার। সেই যুদ্ধে আপনারা জয়ী হয়েছেন। আজকে আমাদের সামনে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা একটা ধবংসস্তূপ মধ্য থেকে আমরা সরকারে এসেছি। যে দিকে তাকাবেন সেদিকে শুনবেন নাই নাই নাই। আসলে অবস্থাটা তাই। এই ধ্বংসস্তূপ থেকে জেগে ওঠা, টেনে তোলা, দলকে শুধু নয় সরকারকে এবং রাষ্ট্রকে এটাই আমাদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলাই হচ্ছে আমাদের মূল লক্ষ্য।

কলেজছাত্রের স্মাট কারে চড়লেন প্রধানমন্ত্রী : এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিজের তৈরি ‘স্মার্ট কার’ এ বসিয়ে ড্রাইভ করলেন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তরুণ ওয়াকিমুল ইসলাম। গতকাল সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রাঙ্গণে তিনি ওয়াকিমুল ইসলামের বাহনে চড়েন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ওয়াকিমুল ইসলামের বানানো স্মার্ট কারে উঠেছেন, কিছুটা পথ ওয়াকিমুল ড্রাইভ করে গাড়িটি দেখিয়েছেন। দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই স্মার্ট কার তৈরির কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী ওয়াকিমুল ইসলামের প্রশংসা করেছেন। তাকে উৎসাহ দিয়েছেন তার এই কাজের জন্য। ব্যাটারিচালিত গাড়িটির নাম রাখা হয়েছে ‘এ টু আই স্মার্ট কার’। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় প্রাঙ্গণে এসে এই গাড়িটি দেখেন এবং কিভাবে এই গাড়িটি তৈরি করা হয়েছে ওয়াকিমুল ইসলামের কাছ থেকে সেই গল্পও শুনেন প্রধানমন্ত্রী। ওয়াকিমুল জানান, এক সময় সারা দিন বাসায় বসে থাকতেন, বাইরে বের হতে পারতেন না। কিভাবে বাইরে একা চলাফেরা করা যায়, সেই চিন্তা থেকে এই গাড়িটি বানানো শুরু করে সে।

ওয়াকিমুল ইসলাম যশোরের চৌগাছা সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী। বিজ্ঞান বিভাগের এই শিক্ষার্থীর বাবা একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। ওয়াকিমুল জানান, সহযোগিতা পেলে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরো উন্নতমানের স্মার্ট কার বানানো সম্ভব। এটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি ছাড়া বয়স্ক ব্যক্তিরাও ব্যবহার করতে পারবেন।

ওয়াকিমুলের সাথে ছিলেন বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির (বিপিকেস) প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আবদুস সাত্তার দুলাল। তিনি জানান, গাড়িটি বৈদ্যুতিক চার্জে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে। ঘণ্টায় গাড়িটির সর্বোচ্চ গতি ৪৫ কিলোমিটার।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানায়, এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম শামছুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।