৭ দফা দাবিতে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের বিক্ষোভ

নিয়োগ পেয়েই এস আলমকে ৫৪৪ কোটি টাকা লুটের বন্দোবস্ত করে দেন চেয়ারম্যান

Printed Edition
ইসলামী ব্যাংকে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবিতে রাজধানীতে গ্রাহকদের বিক্ষোভ মিছিল : নয়া দিগন্ত
ইসলামী ব্যাংকে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবিতে রাজধানীতে গ্রাহকদের বিক্ষোভ মিছিল : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইসলামী ব্যাংকে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের পদত্যাগসহ সাত দফা দাবিতে এক বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিক্ষোভ মিছিল শেষে জাতীয় প্রেস ক্ল¬াবের সামনে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক নুর নবী মানিক বলেন, ঋণখেলাপি বিতাড়িত ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে পুরস্কারস্বরূপ ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয়েছে। তিনি ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার সাথে সাথে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ শাখা থেকে এস আলমকে ৫৪৪ কোটি টাকা লুটের বন্দোবস্ত ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছেন! জনগণের আমানত লুটপাটের মহোৎসবে মেতে উঠেছে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর, ব্যাংক লুটেরা এস আলমের উত্তরসূরি খুরশীদ আলমসহ ইসলামী ব্যাংকে থাকা এস আলমের অনুসারীরা। সংগঠনটি ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের অর্থনীতি রক্ষা করতে সাত দফা দাবি মেনে নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে ইসলামী ব্যাংক ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালন করে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক নুর নবী মানিক বলেন, সরকার এমন একজনকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছেন যিনি দুর্নীতি, অনিয়মের দায়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিতাড়িত ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর থাকাকালীন খুরশীদ আলম ক্ষমতার অপব্যবহার করে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে নিজের স্ত্রীর নামে মোটা অঙ্কের ঋণ নিয়ে সেই ঋণ পরিশোধ করেননি। সেই খেলাপি ঋণের তিনি ছিলেন গ্যারান্টার।

এ সময় সংগঠনটির উদ্যোগে ‘ইসলামী ব্যাংকের অবৈধ চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমের পদত্যাগ’, ‘ওমর ফারুক খানকে এমডি পদে পুনর্বহাল’, ‘লুটপাটের সাথে জড়িত কাউকে ইসলামী ব্যাংকের বোর্ডে না রাখা’, ‘ব্যাংক রেজুলেশন অ্যাক্ট থেকে ১৮(ক) ধারা বাতিল করা’, ‘এস আলমের দখলকৃত মালিকানা ও দেশে থাকা সম্পত্তি বিক্রি করে লুট করা অর্থের সমন্বয় করা’, ‘শুধু ইসলামী ব্যাংক নয়, এস আলম যাতে কোনো ব্যাংকেই ফিরতে না পারে সেই ব্যবস্থা করা’, ‘ইসলামী ব্যাংকসহ সব ব্যাংক লুটকারীকে বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার’ সাত দফা দাবিতে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে দৈনিক বাংলা-পল্টন মোড় প্রদক্ষিণ করে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

এর আগে সোমবার একই দাবিতে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করতে গেলে পুলিশ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার, গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের ওপর জলকামান, টিয়ার শেল, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে এবং বেধড়ক লাঠিচার্জ করে। এতে ৩০ জন গুলিবিদ্ধসহ শতাধিক গ্রাহক আহত হন। তবে পুলিশের আক্রমণের শিকার হয়েও ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা পিছু হটেননি। তারা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যান। পরবর্তী সময়ে মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের সামনে সাত দফা দাবিতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।