চুয়াডাঙ্গায় টানা বৃষ্টিতে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মাঠে কেটে রাখা ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জেলার হাজারো কৃষক চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। অনেক জায়গায় পাকা ধান ভিজে রঙ নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে কৃষকদের কম দামে ধান বিক্রি করতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে চুয়াডাঙ্গায় ৩৫ হাজার ২৩৯ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এবার ফলনও ভালো হয়েছিল। বেশির ভাগ জমির ধান পেকে যাওয়ায় কৃষকরা ধান কাটা শুরু করেন। তবে বাড়িতে পর্যাপ্ত উঠান না থাকায় অনেকেই কাটা ধান মাঠেই শুকাতে রেখে দেন। এর মধ্যেই কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সেই ধান পানিতে ভেসে যায়।
সরেজমিন জেলার বিভিন্ন মাঠে দেখা গেছে, কোথাও কাটা ধান পানিতে ডুবে আছে, কোথাও কৃষকরা বৃষ্টির মধ্যেই ধান তুলে সড়ক বা ক্ষেতের আইলে শুকানোর চেষ্টা করছেন। এতে ধান ঝরে যাচ্ছে, খড় পচে যাচ্ছে। আবার ধান মাড়াই, শুকানো ও বাড়িতে নেয়া নিয়েও বাড়ছে ভোগান্তি।
কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের মাঠপাড়া গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, চার দিন আগে ৬০ শতাংশ জমির ধান কেটে মাঠে রেখেছিলাম। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে তা ঘরে তুলতে পারিনি। এখন পানির মধ্য থেকে ধান তুলে সড়কে শুকানোর চেষ্টা করছি। এতে অনেক ধান ঝরে যাচ্ছে।
আরেক কৃষক আব্দুল গনি বলেন, কয়েক মাসের পরিশ্রমের পর ধান ঘরে তোলার সময়ই বৃষ্টি শুরু হয়েছে। শ্রমিক সঙ্কটও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে একেকজন শ্রমিকের মজুরি এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা হলেও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেক জমির পাকা ধান মাঠেই নষ্ট হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষতির পরিমাণ যে আরো বেড়ে যাবে।
কৃষকদের দাবি, দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে তারা বড় আর্থিক সঙ্কটে পড়বেন। স্থানীয়দের মতে, এ পরিস্থিতি শুধু কৃষকের ক্ষতি নয়, জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগের বিষয়।



