নীলফামারী প্রতিনিধি
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার তিস্তা সেচ প্রকল্পের পরিদর্শন সড়ক সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে করা সড়কের কাজ শেষ হওয়ার পরপরই হাত দিয়েই তোলা যাচ্ছে সড়কের কারপেটিং।
জানা যায়, সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে এক কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে তিস্তা সেচ প্রকল্পের আওতায় প্রধান সেচ ক্যানেলের কিশোরগঞ্জ চেংমারী হতে ৬ দশমিক ৩৭ কিলোমিটার বাম দিকের পরিদর্শন সড়ক সংস্কারের কাজ করা হয়েছে। কাজটি করছেন ঠাকুরগাঁয়ের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জামাল হোসেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কটি মেরামতে নিম্নমানের বিটুমিন, পাথর ব্যবহার করা হয়েছে। পূর্বের রাস্তার ধুলো পরিষ্কার না করেই তার উপর পিচ ঢালাই চলছে। ধুলোবালির উপরেই কারপেটিং করার ফলে সহজেই উঠে যাচ্ছে কারপেটিং। কয়েক দিনের মধ্যে পিচ উঠে পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে। এ ছাড়া সেচ খালের বেড হতে মাটি তুলে সড়কের বাঁধে দেয়া হয়েছে এবং একোয়ারভুক্ত জমি হতে ভেক্যু দিয়ে মাটি কেটে ডাইকে দেয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, আগের সড়কের অবস্থার কোনো উন্নয়ন না করে শুধু মালামাল ঢেলে তাড়াহুড়ো করে কাজ শেষ করা হয়েছে। ফলে খুব অল্প সময়েই রাস্তার অংশ ভেঙে পড়ছে এবং নালার ধারে বসবাসকারীরা ঝুঁকিতে পড়ছেন। এ ছাড়াও সড়কের দুই পাশে ইটের রেজিং না থাকায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে সড়কটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। এসব অনিয়মের অভিযোগে ওই সড়কের ওপরে সম্প্রতি মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য তৈয়ব আলী বলেন, আমরা নিম্নমানের কাজের প্রতিবাদ করতে গেলে ঠিকাদারের লোকজন আমাদের হুমকি দেয়। এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডে অবগত করলে তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
প্রকল্পটির সাব-ঠিকাদার বাসু দেব রায় অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রকল্পের ডিজাইন অনুযায়ী সড়কটির কাজ করা হয়েছে।
সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আখিনুজ্জামান জানান, কোনো কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর তা যাচাইয়ের জন্য ১২ মাস সময় থাকে। এই সময়ের মধ্যে কোনো সমস্যা দেখা দিলে ঠিকাদারের মাধ্যমেই তা পুনরায় মেরামত করা হবে।



