রফিকুল হায়দার ফরহাদ
আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের সময় বিএনপির আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন আমিনুল হক। জাতীয় দলের সাবেক এই গোলরক্ষক সাবেক অধিনায়ক এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জিততে পারেননি। ঢাকা -১৪ আসনে তিনি হেরেছেন জামায়েতে ইসলামীর প্রার্থী কর্নেল (অব:) মো: আবদুল বাতেনের কাছে। আমিনুল হারলেও তার ওপর আস্থা রেখেছেন বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফলে টেকনোক্র্যাট কোটায় তাকে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর পদ দিয়েছেন। ফুটবল মাঠ থেকে রাজপথে আন্দোলন। এরপর জেল খাটা। সেখানে নির্যাতিত হওয়া। খেলোয়াড়ী জীবন থেকেই দৈনিক নয়া দিগন্তের সাথে সুসম্পর্ক আমিনুলের। তাই গতকাল মন্ত্রীত্ব পেয়েই আগামীর পরিকল্পনা নিয়ে দিলেন সাক্ষাৎকার :
প্রশ্ন : আসসালামুআলাইকুম। নতুন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় আপনাকে ধন্যবাদ। মাঠের মানুষ আপনি। রাজনীতিতে যাওয়ার পরও খেলাধুলার সাথে ছিলেন। বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছেন। এখন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দেশের খেলাধুলার উন্নয়নে আপনার পরিকল্পনা কি?
আমিনুল : ওয়ালাইকুমআসসালাম। ধন্যবাদ আপনাকে। দেশের ক্রীড়ার উন্নয়নে আগে থেকেই আমাদের অনেক পরিকল্পনা গ্রহণ করা আছে। এগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে আবার বলব। তবে এখন এটুকু বলতে চাই, খেলাকে পুরোপুরি পেশাদারী হিসেবে দাঁড় করাব। স্কুল পর্যায়ে চতুর্থ শ্রেণী থেকে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করব। খেলাধুলার উন্নয়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে এক সাথে কাজ করব। সে সাথে নতুন কুড়ি স্পোর্টস আওতায় আমরা সারা দেশ থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করব। এরপর তাদের বিকেএসপিতে ফ্রি-তে ভর্তি করাব।
প্রশ্ন : ঢাকায় তো মাঠের তীব্র সঙ্কট। খেলার উন্নয়নে এই মাঠ একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই মাঠের জন্য কী ব্যবস্থা নেবেন?
আমিনুল : ঢাকায় মাঠ সঙ্কট একটি বড় বিষয়। এই সমস্যার সমাধানে ঢাকা সিটিতে দুই ওয়ার্ডকে একত্রিক করে সেখানে তিন বিঘা খালি জায়গা পাওয়া যায় কিনা দেখব। এরপর সেখানে মাঠ তৈরি করব। খোলা জায়গাকে মাঠ হিসেবে ব্যবহার করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
প্রশ্ন : জেলার খেলাধুলার উন্নয়নে কী ভূমিকা রাখবেন।
আমিনুল : একটি সংস্কৃতি চালু আছে। খোলা জায়গা পেলেই সেখানে স্থাপনা নির্মাণ। আমরা সেই নীতির বিরোধী। গ্রামে খোলা জায়গা পেলে সেখানে স্থাপনা নয় মাঠ তৈরি করব।
প্রশ্ন : জেলাগুলোকে একটি স্টেডিয়াম। এই স্টেডিয়ামগুলোকে ক্রিকেট ও ফুটবল ভাগাভাগি করে ব্যবহার করে। এতে সমস্যা হচ্ছে। তাছাড়া দেশের ফুটবল ও ক্রিকেট এখন যে পর্যায়ে গেছে সেখানে এক স্টেডিয়াম ভাগাভাগি করে ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। ফুটবল ও ক্রিকেটের জন্য প্রতি জেলাতে আলাদা স্টেডিয়াম জরুরি। এই বিষয়টি ভেবে দেখবেন?
আমিনুল : আমরা প্রতি জেলাকে একটি করে স্পোর্টস ভিলেজ করব। ২০ বিঘা জমির ওপর হবে এই ভিলেজ। এখানে কোনো গ্যালারি থাকবে না। থাকবে শুধু ড্রেসিং রুম। খোলা মাঠ থাকবে। যাতে সব খেলাই হতে পারে।
প্রশ্ন : আপনি ফুটবলার থেকে মন্ত্রী হয়েছেন। ক্রিকেট বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় খেলা। ক্রিকেটের জন্য আপনার পরিকল্পনা কী কী ?
আমিনুল : ক্রিকেটে সম্প্রতি কী হয়েছে তা আপনারা জানেন। কিছু লোক ভারতকে প্রতিপক্ষ বানিয়েছে। শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করেছে। কেউ কিন্তু আমাদের শত্রু নয়। আমরা ভারতের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাই। দুই দেশের সাথে অচিরেই যেন ক্রিকেট খেলা শুরু হয় সে বিষয়ে কথা বলেছি। বাংলাদেশে ভারতের ডেপুটি হাই কমিশনারের সাথে আমার কথা হয়েছে। দ্রুতই চলমান সমস্যার সমাধান করবে চাই।



