মেট্রোরেলের নিরাপত্তায় আরো কঠোর ডিএমটিসিএল

Printed Edition

- ডিপোর গোপন তথ্য সংরক্ষণে সতর্কতা

- স্টেশনগুলো থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর অত্যন্ত জনপ্রিয় ও আধুনিক গণপরিবহন মেট্রোরেলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনা (কেপিআই) হিসেবে ঘোষিত মেট্রোরেলের ডিপো ও সংরতি এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি যেকোনো ধরনের নাশকতা, তথ্য ফাঁস, অপপ্রচার এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধে নতুন করে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে ডিপোসহ সংবেদনশীল স্থানে স্থিরচিত্র ও ভিডিও ধারণে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ডিএমটিসিএল সূত্রে জানা গেছে, কেপিআইভুক্ত মেট্রোরেল ডিপোর সংরতি এলাকার গোপনীয়তা ভঙ্গ, অনুমতি ছাড়া স্থিরচিত্র ও ভিডিও ধারণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার অভিযোগে ডিএমটিসিএলের আওতায় বাস্তবায়নাধীন এমআরটি লাইন-৫ (নর্দার্ন রুট) প্রকল্পে কর্মরত একজন আউটসোর্সিং কর্মচারীকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার তাকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনায় রাজধানীর তুরাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মেট্রোরেল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। এর ডিপো, অপারেশন কন্ট্রোল সেন্টার, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা, সিগন্যালিং ও নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার সাথে সম্পৃক্ত। ফলে এসব এলাকায় অনুমতি ছাড়া ছবি বা ভিডিও ধারণ, অভ্যন্তরীণ তথ্য প্রকাশ কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ।

এদিকে, যাত্রীসংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে মেট্রোরেলে পকেটমার, টানাপার্টির দৌরেত্ম্যসহ স্টেশনগুলোতে যাত্রীদের নিরাপত্তায় নেয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ। যার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিটি স্টেশনকে অবৈধ হকারমুক্ত করতে চালানো হচ্ছে একের পর এক অভিযান। ধারণা করা হচ্ছে স্টেশনগুলো দখলে থাকা অবৈধ হকারদের ভিড়ে মিশে থাকা অপরাধীরা স্টেশনগুলোতে যাত্রীদের অসাবধানতার সুযোগ নিয়ে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও মূল্যবান সামগ্রী চুরির চেষ্টা করে থাকে। এ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা আরো জোরদার করেছে ডিএমটিসিএল।

ইতোমধ্যে কয়েকটি ঘটনায় অভিযুক্তদের আটকও করা হয়েছে। স্টেশন ও ট্রেনে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বণিক নজরদারি, নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ওপর বিশেষ পর্যবেণ, পোশাকধারী ও সাদা পোশাকের নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন এবং বাংলাদেশ পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর সাথে সমন্বিত টহল জোরদার করা হয়েছে।

ডিএমটিসিএলের কর্মকর্তারা জানান, মেট্রোরেলে যেকোনো ধরনের অপরাধ, নাশকতা বা নিরাপত্তা বিঘিœত করার চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। যাত্রীদের নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও নির্বিঘœ সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। একই সাথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্যও সবাইকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ বলছে, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মতো বাংলাদেশের মেট্রোরেলও একটি কৌশলগত অবকাঠামো। তাই কেবল প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা নয়, যাত্রীদের সচেতনতা, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং দ্রুত অপরাধ দমনের সমন্বিত উদ্যোগই এ গণপরিবহনকে নিরাপদ রাখতে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। নিরাপদ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কর্তৃপরে পাশাপাশি যাত্রীদেরও দায়িত্বশীল আচরণ অপরিহার্য।