সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা
নারায়ণগঞ্জে সোনারগাঁওয়ে তিতাস কর্তৃপক্ষের অভিযানেও বন্ধ করা যাচ্ছে না অবৈধভাবে গড়ে ওঠা চুনা ও ঢালাই কারখানা। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ২০টিরও অধিক চুনা ও ঢালাই কারখানা গড়ে উঠেছে। সরকারি গ্যাস লাইন থেকে অবৈধভাবে সংযোগ টেনে এসব কারখানা চলানো হলেও সেই গ্যাসের বিনিময়ে প্রতি মাসে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র।
তিতাস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার এসব কারখানায় প্রতি মাসে প্রায় সাড়ে তিন লাখ ঘনফুট গ্যাস ব্যবহৃত হচ্ছে। বর্তমান বাজার মূল্যে যার আর্থিক ক্ষতি মাসে প্রায় কোটি টাকারও উপরে। অথচ তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি এ বিপুল পরিমাণ গ্যাসের কোনো বিল পাচ্ছে না।
অভিযোগ উঠেছে, গত ২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সোনারগাঁও উপজেলার পিরোজপুর, মোগরাপাড়া ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় অসংখ্য চুনা ও ঢালাই কারখানার গড়ে উঠেছে। প্রশাসনকে অনেকটা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দাপটের সাথে এসব অবৈধ কারখানা চালিয়ে যাচ্ছে রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি চক্র। জানা যায়, এসব চুনা ও ঢালাই কারখানায় অধিক মুনাফার কারণে রাতারাতি এ ব্যবসায় ঝুঁকে পড়ছেন কিছু স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী।
সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, উপজেলার পৌর এলাকার দত্তপাড়া গ্রামে পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন একটি চুনা কারখানা অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে চালাচ্ছেন। তার পাশেই পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী নাদিম অন্য একজনের মামলাধীন জমিতে জোর করে চুনা কারখানা তৈরি করেছেন।
সোনারগাঁও পৌরসভার দৈলেরবাগ এলাকায় পৌর বিএনপির সভাপতি মো: শাহজাহান মেম্বারও একটি অবৈধ চুনা কারখানা পরিচালনা করছেন। এ ছাড়া দুলালপুর, লাহাপাড়া ও দিঘীরপাড়েও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অবৈধভাবে চুনা কারখানা চালানো হচ্ছে। এদিকে পিরোজপুর ইউনিয়নের পিরোজপুর গ্রামে ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি শফিউল আলম বাচ্চু ও তার ভাই নেয়ামত উল্লার নেতৃত্বে তিনটি ঢালাই কারখানা চলছে।
এ ছাড়া বিএনপির হারুন অর রশিদ, আবুল কাশেম মাস্টার, নোয়াব প্রধান, মতিউর রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের স্থানীয় নেতা ও কর্মীরা ওই ইউনিয়নের ঝাউচর, আষাঢ়িয়ারচর, ইসলামপুর ও পিরোজপুর ইউনিয়নে একাধিক চুনা কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে। উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের সোনাখালী, দমদমা, বন্দেরা ও ইউছুফগঞ্জ এলাকায়ও এ ধরনের একাধিক কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর উপসহকারী পরিচালক মো: আব্দুল্লাহ আল আরেফীন বলেন, আবাসিক এলাকায় এ ধরনের কারখানা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা এ ধরনের প্রতিষ্ঠানকে ফায়ার লাইসেন্স প্রদান করি না।
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের সোনারগাঁও অঞ্চলের ডিজিএম মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন জানান, আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে কারখানাগুলো ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়ে এবং মামলা করেও রোধ করতে পারছি না।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান জানান, বিএনপির নেতাকর্মীদের অবৈধ চুনা কারখানার বন্ধের নির্দেশ দিয়েছি। এ ছাড়া তিতাস কর্তৃপক্ষকে অবৈধ চুনা কারখানা উচ্ছেদে তৎপর থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।



