মানিকছড়িতে ২০ একর বাগান দখলের অভিযোগ আতঙ্কে স্থানীয়রা

Printed Edition

মানিকছড়ি (খাগড়াছড়ি) সংবাদদাতা

খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার মলঙ্গীপাড়া এলাকায় একটি সৃজিত বাগান জবরদখল করে রাতারাতি ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, ঈদুল আজহার ছুটির সুযোগে সঙ্ঘবদ্ধভাবে এ দখল কার্যক্রম চালানো হয়েছে। ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ভূমি হারানোর শঙ্কা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফটিকছড়ির নানুপুর ওবাইদিয়া মাদরাসার পরিচালক সালাহ উদ্দিনের মালিকানাধীন মলঙ্গীপাড়া এলাকায় প্রায় ২০ একর আয়তনের একটি মিশ্র ফল ও পাহাড়ি বাগান রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ঈদের ছুটিতে বাগানে জনবল কম থাকার সুযোগে একদল ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করে বাঁশের বেড়া ও টিনের ছাউনি দিয়ে অন্তত ১৫টি ঘর নির্মাণ করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাগানের এক শ্রমিক জানান, রাতের আঁধারে দ্রুত ঘরগুলো নির্মাণ করা হয়। পরে সেখানে কয়েকটি পরিবার বসবাস শুরু করেছে। তিনি দাবি করেন, ভীতি ও নিরাপত্তাজনিত কারণে বাগান মালিক বা তার প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দিতে পারেননি।

বাগানের মালিক সালাহ উদ্দিন জমি দখলের অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জমিটি তার বৈধ মালিকানাধীন এবং সেখানে দীর্ঘ দিন ধরে বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে লিখিত অভিযোগ দেয়ার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

এ ঘটনায় স্থানীয় বাঙালি বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে ব্যক্তি মালিকানাধীন ও রেকর্ডভুক্ত জমি হারানোর ঝুঁকি বাড়বে। তারা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং দখলসংক্রান্ত বিরোধের সুষ্ঠু সমাধান দাবি করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইউপিডিএফের (মূল) সংশ্লিষ্ট নেতাদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মানিকছড়ি থানার ওসি মাসুদ পারভেজ বলেন, স্থানীয় সূত্রে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এলাকাবাসীর দাবি, বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনা নিরসনে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন, যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে এবং সব পক্ষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।