রাঙ্গাবলীতে ভেঙে পড়ল ২৫ বছরের লোহার সেতু

Printed Edition

রফিকুল ইসলাম রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নে একটি পুরনো আয়রন সেতু ভেঙে খালে পড়ে গেছে। এ ঘটনায় ইব্রাহিম (৩৫) নামে এক পথচারী আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।

গত রোববার বিকেলে মধ্য চরমোন্তাজ ও দক্ষিণ চরমোন্তাজ গ্রামের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত স্লুইস খালের ওপর নির্মিত সেতুটি হঠাৎ ধসে পড়ে। স্থানীয়দের মতে, প্রায় ২০ থেকে ২৫ বছর আগে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘ দিন ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। প্রায় চার থেকে পাঁচ বছর আগে এটি যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এরপর থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রয়োজনের তাগিদে বাঁশ, কাঠ ও রশি দিয়ে সেতুটি কোনোভাবে মেরামত করে ব্যবহার করে আসছিল। সম্প্রতি এর অবস্থা আরো নাজুক হয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত পুরো সেতুটিই ভেঙে যায়।

সেতু ভেঙে যাওয়ায় দুই পাড়ের কয়েক হাজার মানুষের চলাচল ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এখন তাদের যাতায়াতের জন্য প্রায় দেড় থেকে দুই কিলোমিটার দূরের বিকল্প সেতু ব্যবহার করতে হচ্ছে।

দক্ষিণ চরমোন্তাজ গ্রামের বাসিন্দা মো: মামুন বলেন, এই সেতুটি এলাকার মানুষের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এখন জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত করতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ করা না হলে মানুষের দুর্ভোগ আরো বাড়বে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘ দিন ধরে নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি ব্যবহার করতে বাধ্য ছিলেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা অজিত চন্দ্র দেবনাথ বলেন, সেতু ভেঙে পড়ার বিষয়টি তিনি জেনেছেন। খালটির দৈর্ঘ্য ও প্রকল্পের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, খালটি যদি নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকে, তাহলে আমাদের দফতরের মাধ্যমে প্রস্তাব পাঠানো হবে। আর এর চেয়ে বড় হলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) মাধ্যমে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হবে। এলাকাবাসীর দাবি, বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরো বাড়ার আগেই দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হোক।