তুহিন আহামেদ আশুলিয়া (ঢাকা)
ঢাকার আশুলিয়ার নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের জিরানী বাজার এলাকার একটি ফুটওভার ব্রিজের সিঁড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ঝুঁঁকি নিয়ে চলাচল করছেন হাজারো পথচারী। বিশেষ করে পোশাক শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ প্রতিদিন বাধ্য হয়ে ভাঙাচোরা সিঁড়ি ব্যবহার করছেন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
সরেজমিন দেখা যায়, জিরানী বাজার এলাকায় মহাসড়কের ওপর দু’টি ফুটওভার ব্রিজ থাকলেও বিকেএসপি পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজসংলগ্ন ব্রিজটিই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। ব্রিজটির উত্তর পাশের লোহার সিঁড়িতে মরিচা ধরে বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গেছে। দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয়রা পূর্বপাশের একটি ও পশ্চিম পাশের একটি সিঁড়ি বাঁশ দিয়ে আটকে চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন।
এ ছাড়া স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ‘সাবধান, ঝুঁকিপূর্ণ ফুটওভার ব্রিজ, সতর্কভাবে চলাচল করুন’ লেখা একটি সতর্কবার্তাও টাঙানো হয়েছে। তবে তাতেও কমছে না মানুষের পারাপার।
পূর্ব ও পশ্চিম পাশের উত্তরমুখী সিঁড়িগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এখন এক পাশ দিয়েই ওঠানামা করতে হচ্ছে পথচারীদের। এতে প্রতিদিন বাড়ছে ভোগান্তি। বিশেষ করে কর্মঘণ্টার শুরু ও শেষে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে মানুষকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও সিঁড়িগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে সাময়িকভাবে সংস্কার করা হয়েছিল; কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই আবার সেগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও স্থায়ী সংস্কারের উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পথচারী শাহরিয়ার আলম বলেন, প্রতিদিন কাজে যেতে এই ব্রিজ ব্যবহার করি; কিন্তু এখন খুব ভয় নিয়ে চলাচল করতে হয়। বৃষ্টির দিনে সিঁড়ি পিচ্ছিল হয়ে যায়, তখন ঝুঁঁকি আরো বেড়ে যায়।
কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, বিকল্প পথ না থাকায় বাধ্য হয়েই তারা ব্রিজটি ব্যবহার করছে। দ্রুত সংস্কার বা প্রয়োজনে নতুন ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানায় তারা।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: শাহরিয়ার আলম বলেন, ফুটওভার ব্রিজটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশের বিষয়ে তিনি অবগত হয়েছেন। ইতোমধ্যে পরিদর্শনের জন্য লোক পাঠানো হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সিঁড়িসহ ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।



