ভূঁইয়া কামাল মুলাদী (বরিশাল)
বরিশালের মুলাদী উপজেলার সদর ইউনিয়নের চরলক্ষ্মীপুর গ্রামের মোল্লাকান্দি এলাকায় প্রায় আধা কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দে ভরে আছে। আনোয়ার মোল্লা বাড়ি থেকে বাংলাবাজার পর্যন্ত এ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন স্থানীয় শত শত মানুষ হাটবাজার, স্কুল, মাদরাসা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও মুলাদী সদরসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে এলাকাবাসীকে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, সড়কটি এতটাই ভাঙাচোরা যে ভ্যান, অটোরিকশা বা মোটরসাইকেল চালকরা সহজে এ পথে চলাচল করতে চান না। অনেক সময় দ্বিগুণ ভাড়া দেয়ার প্রস্তাব দিলেও চালকরা যেতে রাজি হন না। ফলে জরুরি প্রয়োজনে অসুস্থ রোগী বা বয়স্ক ব্যক্তিদের হাসপাতালে নেয়া বেশ কষ্টকর হয়ে পড়ে।
মুলাদী কলেজের ছাত্রী সুমাইয়া বলেন, বহু বছর ধরে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে আছে। মাঝে মধ্যে কর্মকর্তারা এসে মাপজোক করে গেলেও এরপর আর কোনো খোঁজ মিলে না তাদের। সড়কের ইটগুলো মাটির সাথে মিশে গেছে। ফলে চলাচল আরো কঠিন হয়ে পড়ছে।
মুলাদী ফেয়ার ক্লিনিকের মার্কেটিং কর্মকর্তা সুজন জানান, এই পথে মোটরসাইকেল চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে। অনেক সময় মোটরসাইকেল বন্ধ করে ঠেলে নিয়ে যেতে হয়।
এলাকার এক বৃদ্ধা বলেন, বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরো দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। স্কুলপড়ুয়া ছেলেমেয়েরা কাদা ও পানিতে পিছলে পড়ে আহত হয়। অনেকে স্কুলে যেতে চায় না।
অটোরিকশা চালক মন্নান ও আলী বলেন, রাস্তার বড় বড় গর্তের কারণে গাড়ি উল্টে যাওয়া কিংবা গাড়ির যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
স্থানীয়রা জানান, ধুলাবালুর কারণে আশপাশের গাছপালার সবুজ পাতা লালচে হয়ে গেছে। দিনের বেলায় ঘরবাড়ি ধুলার আস্তরণে ঢেকে যায়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স বা ফায়ার সার্ভিসের গাড়িও চলাচল করতে পারে না। তাই দ্রুত সড়কটি সংস্কারের মাধ্যমে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।



