দীর্ঘস্থায়ী অটোইমিউন রোগ সজোগ্রেন চোখ ও দাঁতের ক্ষতি করে বেশি

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

অটো ইমিউন আরেকটি রোগের নাম সজোগ্রেন। রোগটির কোনো স্থায়ী চিকিৎসা নেই তবে লক্ষণভিত্তিক ওষুধ দেয়া হলে সাময়িক স্বস্তি পাওয়া যায়। এই রোগটি হলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা চোখের ল্যাক্রিমাল ও মুখের লালা গ্রন্থিসহ আরো কিছু আর্দ্রতা তৈরি করা গ্রন্থিগুলোকে ভুলবশত আক্রমণ করে। ফলে চোখ তীব্র মাত্রায় শুকিয়ে যায়। মুখে কোনো লালা তৈরি হয় না বললেই চলে। খাবার গিলার মতো পর্যাপ্ত লালা মুখে থাকে না। এমনকি জিহবা নাড়িয়ে কথা বলতেও অসুবিধা হয়ে থাকে। লালা না থাকায় ফাঙ্গাল ইনফেকশন হয় ও দাঁতে তুলনামূলক বেশি ক্ষয় দেখা দেয়।

চোখে এই অটো ইমিউন রোগটি হলে চোখে বালু পড়ার মতো অস্বস্তি দেখা দেয়, সাথে জ¦লুনি ও আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা দেখা দেয়। শরীরের অন্যান্য স্থানে যেমন ত্বকে শুষ্কতা, শরীরে তীব্র ক্লান্তি দেখা দেয়। জয়েন্টে ও পেশিতে ব্যথা হয়ে থাকে।

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রিউমাটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা: শোয়েব মোমেন মজুমদার নয়া দিগন্তকে বলেন, সজ্রোগ্রেন হলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিজেদের আর্দ্রতা তৈরি করা গ্রন্থিগুলোকে (যেমন : চোখের ল্যাক্রিমাল ও মুখের লালা গ্রন্থি) ভুলবশত আক্রমণ করে। ফলে মূলত তীব্র মাত্রায় শুষ্ক মুখ ও শুষ্ক চোখ দেখা দেয়। এর কোনো স্থায়ী নিরাময় নেই, তবে সঠিক চিকিৎসায় লক্ষণগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

তিনি বলেন, ৪০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এই রোগটি বেশি দেখা দিতে পারে। পুরুষদের থেকে নারীদের বেশি হতে পারে। রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকরা অ্যান্টিবডি পরীক্ষা (রক্ত পরীক্ষা) দিয়ে থাকেন। চোখের জন্য ‘শিরমার টেস্ট’ এবং লালা গ্রন্থির কার্যকারিতার জন্য পরীক্ষা দিয়ে থাকেন। এই রোগের কোনো নিরাময় নেই। তবে চিকিৎসকরা লক্ষণগুলো কমিয়ে জীবনযাত্রার মান উন্নত করার ব্যবস্থা করতে পারে লক্ষণগুলো দেখে চিকিৎসা দিয়ে। ডা: শোয়েব পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছেন সজোগ্রেনে আক্রান্ত রোগীদের। তিনি আরো বলেন, ঠোঁট ও মুখের আর্দ্রতা বজায় রাখার জন্য চিকিৎসকরা নানা কিছু ব্যবহারেরও পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তিনি শুষ্ক আবহাওয়া, ধোঁয়া ও সরাসরি বাতাসের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে বলেন পরামর্শ দেন। ধূমপান থেকে বিরত থাকতে বলা হয় রোগটি হলে। এগুলো মুখের শুষ্কতা আরো বাড়িয়ে তোলে।

দীর্ঘস্থায়ী অটোইমিউন সজোগ্রেনকে প্রতি বছর ২৩ জুলাই দিবস হিসেবে চিকিৎসা পালন করে থাকেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে দিবসটি উপলক্ষে র্যালি বের করা হয়। র্যালির উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উন্নয়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রোভিসি অধ্যাপক ডা. মুজিবুর রহমান হাওলাদার। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- রিউমাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা: মো: আবু শাহীন, অধ্যাপক ডা: মো: নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক ডা: মিনহাজ রহিম চৌধুরী, সহযোগী অধ্যাপক ডা: মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক ডা: মোহাম্মদ শোয়েব মোমেন মজুমদার প্রমুখ।