সংসদ প্রতিবেদক
মিয়ানমারের চলমান সঙ্ঘাত ও অস্থিরতার কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কার্যক্রম অনিশ্চয়তায় পড়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কটের একমাত্র টেকসই সমাধান হলো নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন; তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সঙ্ঘাত এ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে।
গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে লিখিত প্রশ্নোত্তরে তিনি জানান, মিয়ানমারের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের তথ্য যাচাই কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত ছয় ধাপে আট লাখ ২৯ হাজার ৩৬ জন রোহিঙ্গার তথ্য মিয়ানমারের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত তিন লাখ ৫৪ হাজার ৭৫১ জনের তথ্য যাচাই সম্পন্ন হয়েছে। যাচাইকৃতদের মধ্যে দুই লাখ ৫৩ হাজার ৯৬৪ জনকে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ‘পূর্বে মিয়ানমারে বসবাসকারী ব্যক্তি’ হিসেবে শনাক্ত করেছে।
চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, অতীতে ১৯৭৮ ও ১৯৯২ সালে দুই দফায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সফলতা এলেও বর্তমান প্রেক্ষাপট ভিন্ন। তবুও বাংলাদেশ কূটনৈতিক, আইনি ও মানবিক সব ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন জোরদারে কাজ করছে।
রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যার দায়ে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে চলমান মামলার বিষয়েও তিনি কথা বলেন। গাম্বিয়া বনাম মিয়ানমার মামলায় বাংলাদেশ নৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থনের পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও জানান তিনি। আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় এ প্রক্রিয়াকে বাংলাদেশ গভীর গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে।



