নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানী ঢাকার জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত বিশেষ ও নিয়মিত অভিযানে ৪৪৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সময়ে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে দুই হাজার ২৪০টি মামলা দায়ের করেছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ। গতকাল বৃহস্পতিবার ডিএমপির মিডিয়া বিভাগ এসব তথ্য জানায়।
ডিএমপি জানায়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ওয়ারী বিভাগ থেকে ১০৪ জন, মিরপুর বিভাগ থেকে ৮৩ জন এবং তেজগাঁও বিভাগ থেকে ৭৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া মতিঝিল বিভাগে ৪৯ জন, লালবাগ ও গুলশান বিভাগে ৩৮ জন করে, উত্তরা বিভাগে ৩৫ জন, রমনা বিভাগে ২১ জন এবং ডিবি পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করেছে। অভিযানে গ্রেফতারকৃতদের হেফাজত থেকে একটি বিদেশী পিস্তল, তিন হাজার ৭৫৫ পিস ইয়াবা, ৯ কেজি পাঁচ গ্রাম গাঁজা, সাত গ্রাম হেরোইনসহ মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
এ দিকে তেজগাঁও থানা সাতজন, শেরেবাংলানগর থানা ছয়জন, মোহাম্মদপুর থানা ২৪ জন, আদাবর থানা ১৮ জন, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা সাতজন ও হাতিরঝিল থানা ১২ জনসহ মোট ৭৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তা ছাড়া মতিঝিল বিভাগের বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে ৬৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যার মধ্যে মুগদা থানায় ২১ জন এবং পল্টন থানায় ১২ জন রয়েছেন।
ডিএমপি আরো জানায়, বৃহস্পতিবার রাজধানীর মুগদা থানা এলাকায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ ২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ ছাড়া শেরেবাংলানগর থানা পুলিশ বুধবার অভিযান চালিয়ে ছয়জন সক্রিয় অপরাধীকে গ্রেফতার করেছে, যাদের ইতোমধ্যে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
চুরির রহস্য উদঘাটন ও মাদক উদ্ধার : যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ ধলপুর এলাকায় একটি বড় চুরির রহস্য উদঘাটন করেছে। নোয়াখালীর হাতিয়া থেকে প্রধান আসামি ফাতেমা আক্তার মেঘনাকে গ্রেফতারের পাশাপাশি তার কাছ থেকে এক ভরি ১২ আনা ৩ রতি স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছে। এ দিকে তুরাগ থানা পুলিশ ৪ কেজি গাঁজাসহ মো: রাসেল নামে এক মাদককারবারিকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ জানায়, রাসেল ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে মাদক এনে রাজধানীতে সরবরাহ করত।
ট্রাফিক শৃঙ্খলা রায় কঠোরতা : রাজধানীর সড়কগুলোতে শৃঙ্খলা ফেরাতে গত বুধবার পরিচালিত অভিযানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট দুই হাজার ২৪০টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগে সর্বোচ্চ ৩৯১টি এবং মতিঝিল বিভাগে ৩৬৫টি মামলা হয়েছে। এ ছাড়া আইন লঙ্ঘনের কারণে ৪৭৬টি গাড়ি ডাম্পিং এবং ২৯২টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে।



