কেবল ভিকারুননিসায় আংশিক শুরু

অনলাইন ক্লাসে তেমন সাড়া নেই

শাহেদ মতিউর রহমান
Printed Edition

জ্বালানি সাশ্রয় ও যানজট নিরসনে সরকারের পক্ষ থেকে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাসের ঘোষণা দেয়া হলেও প্রথম দিনে তেমন সাড়া মেলেনি। গতকাল রোববার থেকে ঢাকা মহানগরীর স্কুল-কলেজগুলোতে এই পদ্ধতি চালুর কথা থাকলেও বাস্তবে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ তাদের কলেজ শাখার জন্য তিন দিন অনলাইন ও তিন দিন অফলাইন ক্লাসের ঘোষণা দিয়েছে।

ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম স্বাক্ষরিত এক নোটিশে জানানো হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী কলেজ শাখার জন্য শনিবার, সোমবার ও বুধবার সশরীরে এবং রোববার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার অনলাইনে ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। অনলাইন ক্লাসের রুটিন ও লিংক স্ব-স্ব শ্রেণী শিক্ষকের মাধ্যমে সরবরাহ করা হবে। প্রতিষ্ঠানটির বেইলি রোডসহ ধানমন্ডি, আজিমপুর ও বসুন্ধরা- সব ক’টি শাখার জন্যই এই নির্দেশনা কার্যকর হবে।

এ দিকে অনলাইন ক্লাসের প্রকৃত চিত্র জানতে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি)। অধিদফতরের মাধ্যমিক শাখার উপ-পরিচালক মো: ইউনুছ ফারুকী নয়া দিগন্তকে জানান, মন্ত্রণালয়ের মৌখিক নির্দেশনায় বিভিন্ন আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে তথ্য নেয়া হচ্ছে এবং কতটি প্রতিষ্ঠান অনলাইন ক্লাস শুরু করেছে তার তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তবে মাউশিরই অন্য এক কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে জানান, এখন পর্যন্ত অধিকাংশ স্কুল-কলেজের মধ্যেই অনলাইন ক্লাস নিয়ে কোনো আগ্রহ বা সাড়া দেখা যাচ্ছে না।

সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিপরীতে শিক্ষক সংগঠন ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও বিরোধিতা দেখা গেছে। এমনকি বিরোধী দলের পক্ষ থেকেও অনলাইন ক্লাসের নামে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, যুদ্ধ বিরতির সম্ভাবনা না থাকায় জ্বালানি সঙ্কট উত্তরণে বিকল্প হিসেবে এই উদ্যোগটি কার্যকর করার চেষ্টা চলছে।

সম্প্রতি শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, শনি, সোম ও বুধবার সশরীরে এবং বাকি দিনগুলোতে অনলাইনে পাঠদান চলবে। আজ সোমবার থেকে এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়ন শুরু হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে গিয়েই অনলাইনে ক্লাস নেবেন এবং ওয়াইফাইসহ কারিগরি সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হবে।

মন্ত্রী আরো স্পষ্ট করেন যে, এটি কোনো বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত নয় এবং সব প্রতিষ্ঠানে এটি চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে না। মূলত মহানগর এলাকার যেসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী বেশি এবং অনলাইন ক্লাসের সক্ষমতা রয়েছে, সেখানে পরীক্ষামূলকভাবে এটি চালু করা হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য নগরীর যানজট হ্রাস ও জ্বালানি সাশ্রয় করা। যেসব প্রতিষ্ঠান সক্ষম, তারা স্বেচ্ছায় এই পদ্ধতিতে অংশগ্রহণ করবে এবং ধাপে ধাপে এর পরিধি বিস্তৃত করার সম্ভাবনা রয়েছে।