সিলেটে জামায়াতের রুকন সম্মেলন

দায়বদ্ধতা থেকেই জামায়াত জনগণের পক্ষে কথা বলে যাবে : এ টি এম আজহার এমপি

Printed Edition
সিলেট মহানগর জামায়াতের রুকন সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন  এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি : নয়া দিগন্ত
সিলেট মহানগর জামায়াতের রুকন সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি : নয়া দিগন্ত

সিলেট ব্যুরো

জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম এমপি বলেছেন, আমাদের দায়িত্বশীলদের আত্মশুদ্ধি, শৃঙ্খলা, ত্যাগ ও নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন করতে হবে। নিয়মিত সাংগঠনিক চর্চা, দাওয়াতি কার্যক্রম এবং জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মীদের মধ্যে গতি, উদ্যম ও দায়িত্ববোধ বাড়াতে হবে। আমাদেরকে ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে পারিবারিক জীবন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে ইসলামের আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে কল্যাণমুখী সমাজ প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে। তাহলে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি ও কল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব।

তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হওয়ার কারণে দেশে ফের গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু হয়েছে। বিগত সংসদ নির্বাচনে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে জামায়াতকে ভোট দিয়েছে। কিন্তু দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে গণরায় পাল্টে দেয়া হয়েছে। জনগণ বর্তমান সংসদের বিরোধী দল ও আদর্শিক দল হিসেবে জামায়াতের নেতৃত্বের অপেক্ষার প্রহর গুণছে। এ বিষয়টি মাথায় রেখে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে আমাদের জনগণের পক্ষে কথা বলতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো আপস চলবে না। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের স্বপ্ন পূরণে জামায়াত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশে নতুন ফ্যাসিবাদ ঠেকাতে ও আগামী দিনের যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দেশপ্রেমিক জনতাকে ঐক্যবদ্ধ করতে জামায়াত দায়িত্বশীলদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি গতকাল সকালে সিলেট মহানগর জামায়াত আয়োজিত রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন। সম্মেলনে সিলেট মহানগরীর আওতাধীন সব রুকন অংশ নেন।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং মহানগর সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর পরিচালনায় নগরীর রিকাবীবাজারস্থ এম সাইফুর রহমান অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান এবং সিলেট অঞ্চল টিম সদস্য হাফিজ আবদুল হাই হারুন। দারসুল কুরআন পেশ করেন মধ্যপ্রাচ্য জামায়াতের দায়িত্বশীল মাওলানা আব্দুস সোবহান আজাদ।

বক্তব্য রাখেন মহানগর নায়েবে আমির হাফিজ মাওলানা মিফতাহুদ্দীন আহমদ ও ড. নূরুল ইসলাম বাবুল, সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুর রব, জাহেদুর রহমান চৌধুরী ও মাওলানা ইসলাম উদ্দিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মজলুম জননেতা এ টি এম আজহারুল ইসলাম এমপি বলেন, সীমাহীন জুলুম-নির্যাতন, খুন-গুম ও শাহাদাতের বিনিময়ে জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে জামায়াত আজকের অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। আদর্শিক মোকাবেলায় ব্যর্থ হয়ে শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি দিয়ে ও কারাগারে নির্যাতন চালিয়ে শহীদ করা হয়েছে। আমি নিজেও ফাঁসির কাষ্ঠ থেকে আজকে জনপ্রতিধি নির্বাচিত হয়ে আপনাদের সামনে এসে দাঁড়াতে পেরেছি। এটাই আল্লাহর বিচার। কারণ আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজ করি। দ্বীনের জন্য সবসময় জান ও মালের সাথে জীবন উৎসর্গ করাই ইসলামী আন্দোলনের শিক্ষা।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ইসলামী আন্দোলনের পথ জুলুম, নিপীড়ন ও শাহাদাতের পথ। সর্বোচ্চ ত্যাগের শপথ নিয়েই আমরা ইসলামী আন্দোলনে শামিল হয়েছি। আমাদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে কোনো লাভ নেই। জামায়াতকে নিয়ে ষড়যন্ত্র হয়েছে, কিন্তু দমিয়ে রাখা যায়নি। জামায়াতের সর্বস্তরের জনশক্তিকে জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে। সামাজিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি করতে হবে।

সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর জাতি একটি পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু নতুন সরকার ক্ষমতায় গিয়ে ফের ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটতে শুরু করেছে। তারা জুলাই সনদকে উপেক্ষা ও গণভোটের রায় বাতিলের মাধ্যমে ছাত্র-জনতার রক্তের সাথে প্রতারণা করেছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষা পূরণ ও বৈষম্যহীন মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে জামায়াতের দায়িত্বশীলদের ময়দানের তৎপরতা বৃদ্ধি করতে হবে।