খ্যাতিসম্পন্ন লোকবিজ্ঞানী, শিশু সাহিত্যিক এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত লোকসাহিত্যিক ডক্টর আশরাফ সিদ্দিকীর ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৯ মার্চ। ২০২০ সালের এই দিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালে তাকে মরণোত্তর ‘স্বাধীনতা পদক’-এর জন্য মনোনীত করা হয়েছে।
ডক্টর আশরাফ সিদ্দিকী ১৯২৭ সালের ১ মার্চ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নাগবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা সমাপন করেন। পরবর্তীতে ১৯৬৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোকসাহিত্যে পিএইচডি অর্জন করেন।
তিনি টাঙ্গাইলের কুমুদিনী কলেজ, রাজশাহী কলেজ, চট্টগ্রাম কলেজ ও ঢাকা কলেজে অধ্যাপনা করেছেন। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর আহ্বানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগেও শিক্ষকতা করেন। পরবর্তীতে তিনি জগন্নাথ কলেজের অধ্যক্ষ, বাংলা উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালক এবং বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। তার নির্দেশনায় ও তত্ত্বাবধানেই বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’র সূচনা হয়।
তিনি ত্রিশালের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন। এ ছাড়াও তিনি নজরুল একাডেমি, নজরুল ইনস্টিটিউট এবং বাসস-এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। গণমাধ্যমেও তার অবদান অনস্বীকার্য; বিটিভির জনপ্রিয় সিরিয়াল ‘হিরামন’ ও ‘মেঠোসুর’ তারই পরিচালনা ও নির্দেশনায় নির্মিত।
তার উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে, ‘গলির ধারের ছেলেটি’, ‘তালেব মাস্টার’, ‘ভোম্বল দাশ’, ‘আওয়ার ফোকলোর’ এবং ‘ফোকলোরিক বাংলাদেশ’। শিশু সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কারেও ভূষিত হয়েছেন। ডক্টর আশরাফ সিদ্দিকীর ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার পরিবার এবং প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খাঁ স্মৃতি সংসদ ঢাকার পক্ষ থেকে মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি।



