রাশিদুল ইসলাম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্যসচিব তাহসিন রিয়াজ বলেছেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি যে বাংলাদেশের মানুষের গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর ছিলেন এবং তাকে নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার যে চিন্তাভাবনা করে টার্গেট করেছিল, মমতা বন্দোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক মন্তব্যে তা প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন, হাদি বাংলাদেশের মানুষের কত বড় অ্যাসেট ছিলেন তা এখন পরিষ্কার। তার চাওয়া এবং তার রক্ত একচুয়ালি বাংলাদেশের জন্য ঝরেছে। এটা আরো বেশি প্রমাণিত হয়ে গেছে। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কেন্দ্রীয় সরকার যখন হাদি হত্যার সাথে জড়িত তখন এটা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়, আমরা যে দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা স্লোগান দেই সেই স্লোগানের জাস্টিফিকেশন আছে। এটাই বাস্তবতা।
নয়া দিগন্তকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এনসিপির এই তরুণ নেতা আক্ষেপ করে বলেন, কেউ রাষ্ট্র সংস্কার ও গঠনের জন্য কাজ করবে না বরং যারা এ বিপ্লবটা সংঘটিত করল এতদিন প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে, ব্যর্থতার দায়টা বরং তাদের ওপর দিয়ে দেবে- এটাই হলো চ্যালেঞ্জ।
নয়া দিগন্ত : তাহলে পুরনো রাষ্ট্রকাঠামো দিয়ে জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের আশ্বাস তো ফাঁপা বুলি ছাড়া কিছু না?
তাহসিন রিয়াজ : আদতে তাই হলো। তারা তো একটা ছলচাতুরীর মধ্যে দিয়ে আমাদের নিয়ে গেল। তারা প্রথম অ্যাগ্রি করল সবকিছু মানবে, এরপর হুট করে এসে বলল তারা এটা করবে না, এটা মানবে না, তারা মুখে বলে এটা করব, অক্ষরে অক্ষরে পালন করব, ইতোমধ্যে এখান থেকে অনেকগুলো অক্ষর গায়েব হয়ে গেছে। দিন শেষে হাসিনা রেজিমের পতন হয়েছে এটা সত্য, একটা ডেমোক্র্যাটিক গভর্নমেন্ট আসছে এটাও সত্য, কিন্তু কাঠামোগত পরিবর্তন হলো না যে সমস্যাগুলো ছিল তা রয়ে গেল, ঠিক দেখবেন পাঁচ বছর পর নির্বাচনকালীন সরকার কেমন হবে একটা চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে ইত্যাদি।
নয়া দিগন্ত : তাহলে কি সার্বিক সঙ্কট আরো জটিল হচ্ছে?
তাহসিন রিয়াজ : শতভাগ জটিল হচ্ছে।
নয়া দিগন্ত : তাহলে তরুণদের রাষ্ট্রচিন্তা নিয়ে ভাবনায় একটা ছেদ পড়ল, এটা কি আরো শক্তিশালী হবে নাকি গতানুগতি রাজনৈতিক হাওয়ায় তারা উড়ে যাবে?
তাহসিন রিয়াজ : উড়বে না এবং উড়ছে না। এনসিপি তার দাবির দিক থেকে জোরালো অবস্থানেই আছে। আমরা এক চুল পরিমাণ নড়ি নাই। আমাদের বিরুদ্ধে এত প্রপাগান্ডা, এত ষড়যন্ত্র।
নয়া দিগন্ত : এখন তো নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী রাস্তায় বের হলে তার ওপর আঘাত হানা হচ্ছে।
তাহসিন রিয়াজ : হ্যাঁ শুধু প্রপাগান্ডা না এটা এখন আঘাতে পরিণত হয়েছে। এখন ফাইটটা লম্বা। আমাদের অ্যাসেস, আমরা যেভাবে বুঝি ফাইটটা আসলে পুরো কাঠামো চেঞ্জ করার ফাইট। হাসিনা রেজিম চলে গেলেই এ ফাইট শেষ হবে না। সঙ্ঘবদ্ধ ও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রয়োজন, তরুণ সম্প্রদায়ের সাথে আমরা প্রচুর কথা বলছি, তারা মোটেও কনভিন্সড না। বিএনপি যেভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে, তারা যেভাবে বিট্রে করল তাতে তরুণরা মোটেও সন্তষ্ট না, তাদের মধ্যে পরিবর্তনের নেশাটা এখনো আছে। শক্তভাবেই আছে।
নয়া দিগন্ত : তাহলে কি তরুণদের ফাইট থেকে সাধারণ মানুষ দূরে সরে যাচ্ছে?
তাহসিন রিয়াজ : সাধারণ মানুষকে যখন একটা সিস্টেমে ঢুকিয়ে দিচ্ছেন সে তখন তা মানছে কিন্তু সেও এক জটিল আবর্ত থেকে মুক্তি পায়নি। সবাই বলছে দেশে সিস্টেমের পরিবর্তন করতে হবে। এটা একটা রিকশাওয়ালা বলে, দোকানদারও বলে, এলিট সোসাইটিও বলে, তারা সবাই দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে সিস্টেমের আমূল পরিবর্তন হতে হবে। দেখেন এই যে ট্রাফিক লাইটে পরিবর্তন এটা কিন্তু ইনটেরিম গভর্নমেন্ট করেছে, বিজয় সরণিতে যখন ইনটেরিম গভর্নমেন্ট ট্রাফিক লাইটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার করল, প্রথম কয়দিন কেউ মানেনি, কিন্তু এরপর লালবাতি জ্বললে সব যানবাহন দাঁড়াতে শুরু করেছে। সিস্টেমে মানুষকে বাইন্ডিং করতে হবে। সমস্যা হচ্ছে এটা সচিবালয়ে সম্ভব হচ্ছে না, বিকজ অব ব্যুরোক্র্যাসি। যারা দুর্নীতির সাথে ইন্টিগ্রেটেড জড়িত, ওল্ড মাইন্ডসেট বা আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে হচ্ছে না। কারণ তাদের ন্যূনতম কমিটমেন্ট নাই, তারা চিন্তা করে সিস্টেম পাল্টালে তার খাই খাই বন্ধ হয়ে যাবে, তারা এ সিস্টেমকে পরিবর্তন করতে দেয় না বা দিচ্ছে না।
নয়া দিগন্ত : এর ফাঁক দিয়ে বিদেশী আধিপত্য শক্তি তো সুযোগ নিচ্ছে, লাভবান হচ্ছে।
তাহসিন রিয়াজ : অবশ্যই। ভারতের পশ্চিমবাংলার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক বক্তব্য তো শুনলেন। হাদি যে এদেশের মানুষের একটা গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর ছিল, প্রবাদ আছে না যে ‘মরে প্রমাণ করল আসলে সে ভালো লোক ছিল।’
নয়া দিগন্ত : তরুণদের রাষ্ট্রচিন্তার পাটাতন হিসেবে কি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কাজ করতে পারছে?
তাহসিন রিয়াজ : ২৪-এর আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা ছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সেই ভূমিকা এখন মৃতপ্রায় কারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পলিটিসাইজড হয়ে গেছে। হাসিনা সরকার যে পদ্ধতিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভিসি নিয়োগ করেছে, বিএনপি সরকার তার কোনো বিপরীত এক্সাম্পল সৃষ্টি করতে পারেনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়াজ আহমেদ স্যারকে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল যোগ্যতার কারণে। কিন্তু এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বলতে হচ্ছে ভিসি নিয়োগগুলো রাজনৈতিকভাবেই দেয়া হচ্ছে। বুয়েটের ভিসি পরিবর্তনে তার প্রোফাইল দেখেন। বিএনপি মাইন্ডেড লোক হওয়া সত্ত্বেও তাকে সরে যেতে হয়েছে। তার যোগ্যতা নিয়ে সব মহলে গ্রহণযোগ্যতা ছিল। কিন্তু যাকে ভিসি করা হলো তিনি কোনো ডিপার্টমেন্টাল হেডও ছিলেন না। একই সাথে ছাত্রদের মধ্যে তো কাজ করার স্পেস তৈরি করতে হবে। ছাত্রদের নিয়ে ছাত্রদলের কোনো কর্মসূচি এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। কোনো ইয়ুথ সামিট বা ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কোনো সেমিনার নাই। জিরো। সকালবেলা ঘুম থেকে তুলে তাদের মিছিলে নিচ্ছেন। আগে গণরুম ছিল, এখন তা স্তিমিত অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের প্রতিবাদের কারণে। সাংস্কৃতিক কোনো পরিবর্তন চোখে পড়ছে না।
নয়া দিগন্ত : ওঁৎ পেতে থাকা তৃতীয় পক্ষ বা বাইরের কোনো শক্তি ছাত্রদের মিসগাইডেড করার সুযোগ নিয়ে থাকে।
তাহসিন রিয়াজ : হচ্ছেও তাই। রাষ্ট্র যারা পরিচালনা করেন তাদের উদাহরণ সৃষ্টি করতে হয়। নারীদের প্রতি আমরা সবাই শ্রদ্ধাশীল। জায়মা রহমানকে নিয়ে যে নোংরামিটা হয়েছে সেটা ছাত্রলীগ করেছে এটা প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু এটা শিবিরের ওপর চাপিয়ে দেয়া হলো। এটা নিয়ে একসাথে বসে কথা বলা যেত। একসাথে বসে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে, এমনতো না তারা মুখোমুখি অবস্থানে ছিলেন। শেষমেশ এ বিষয়টি নিয়ে থানায় হামলা করা হলো। গণতান্ত্রিক সরকারের সময় এ উদাহরণ তো কারো জন্যই সুন্দর হলো না।
নয়া দিগন্ত : অনেকে বলার চেষ্টা করছে বৈষম্যবিরোধীরা এখন ব্যাকফুটে চলে গেছে।
তাহসিন রিয়াজ : না, বৈষম্যবিরোধীরা পিছু হটেনি। আরেকটু বড় আকারে দেখলে বাংলাদেশপন্থীরা সবসময় সক্রিয় ছিল এখনো ক্রান্তিকালে তারা মৌমাছির মতো এসে ঝাঁপিয়ে পড়বে।
নয়া দিগন্ত : গণ-আকাক্সক্ষা পূরণে তাহলে রাষ্ট্রনায়কোচিত একটা নেতৃত্বের অভাব থেকে গেল।
তাহসিন রিয়াজ : হ্যাঁ অভাব রয়েছে বলেই মৌলিক যে সিস্টেম তা এখনো পরিবর্তন করতে পারিনি। প্রধানমন্ত্রী যেভাবে চলছেন তার নেতাকর্মীরা তাকে যথাযথভাবে অনুসরণ করতে পারছেন না। তারেক রহমানকে কেন সিটি করপোরেশনের ময়লা পরিষ্কারের দিকে নজর দিতে হবে।
নয়া দিগন্ত : সংসদ কার্যকর করতে নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের আরেকটু সময় দেয়ার কথাও বলছেন অনেকে, আবার হাসনাত আব্দুল্লাহকে দেখা যাচ্ছে দেবিদ্বার হাসপাতাল পরিদর্শন করতে, উনি তার এলাকার বরাদ্দ খরচের বিষয়টি পাই পাই করে বুঝিয়ে দিচ্ছেন, তো এই উদাহরণতো অন্য সংসদ সদস্যদের অনুকরণ করতে দেখা যাচ্ছে না।
তাহসিন রিয়াজ : এক্সাটলি ইট ইজ। রাজনীতিটা অন্যদের জন্য আমরা কঠিন করে তুলতে চাই। মানুষের মধ্যে এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে হাসনাত যদি তার এলাকার বরাদ্দের হিসাব দিতে পারে তাহলে বাকিরা কেন দেবে না। বাকিদেরকে এই জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে হবে। বরং আমরা ১৫ কোটি বা ১০ কোটি নিয়ে প্রপাগান্ডা দেখতে পেলাম। বাকিরা তো ওই সময়ে সাড়ে ছয় শ’ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ পেয়েছেন। ওই টাকাগুলো কিভাবে কার কার কাছে গেছে।
নয়া দিগন্ত : গণভোটের রায় বাস্তবায়নে দলীয় দর্শনের কথা বলা হচ্ছে কিন্তু গণরায়কে নিয়ে কি পরীক্ষা নিরীক্ষা করার সুযোগ আছে?
তাহসিন রিয়াজ : গণরায়কে নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করার কোনো সুযোগ নাই। গণভোটের ব্যবস্থা যেভাবে ছিল হাসিনা তো ইনভ্যালিড করে দিয়েছে। গণ-আকাক্সক্ষার বাস্তবায়নে যেকোনো ইস্যুতে গণভোট হতে পারে। ইরানে বিপ্লবের পর দুই বছরে তিনটি গণভোট হয়েছে। সংবিধানে তো ওদের কোনো গণভোটের ব্যবস্থা ছিল না। নতুন সংবিধান করবে কী করবে না, বেলায়েতে ফকিহ ব্যবস্থাকে কার্যকরা করবে কী করবে না এসব নিয়ে তারা গণভোট করেছে। ইসলামী শাসনব্যবস্থা চালু নিয়ে তারা গণভোট করেছে।
নয়া দিগন্ত : জনসম্পৃক্ততা নিয়ে কোনো দেশে কোনো রাজনৈতিক দল এগিয়ে যায় তাহলে তো বিদেশী শক্তি কোনো প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে না।
তাহসিন রিয়াজ : ইরানকে কোনো দেশ দমন করতে পারে নাই কারণ গণঐক্য রয়েছে। আমাদের সমস্যা হচ্ছে প্রতারণা। নিজে গণভোটের জন্য ভোট চাইলেন, বললেন হ্যাঁ ভোট দিতে হবে।
নয়া দিগন্ত : তাহলে গণরায় উপলব্ধি করার ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোনো ঘাটতি নাই।
তাহসিন রিয়াজ : শতভাগ প্রতারণা। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তো গণভোট করেছিলেন। তারা এখন বলতে চায় গণভোটের প্রশ্ন নাকি জনগণ বুঝে নাই। জিয়াউর রহমানের গণভোটে প্রশ্ন করা হয়েছিল ২৬ দফা সমর্থন কর কি কর না? ২৬ দফার ডিটেইলস ছিল না।
নয়া দিগন্ত : বিএনপির ৩১ দফায় তো বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের কথা রয়েছে, এসব কি ব্যাকফায়ার করবে?
তাহসিন রিয়াজ : ব্যাকফায়ার করছে। প্রথম দফায় তারা বলল সংবিধান সংস্কার পরিষদ করবে। এখন বলছে সংবিধান সংস্কার বলে কিছু নাই। স্থানীয় সরকার প্রশাসনে প্রশাসকদের ফায়ার করা যাবে না বলে এখন তাদের ফায়ার করার আইন পাস করা হয়েছে। বিচার বিভাগ পৃথকীকরণে পৃথক সচিবালয়ে লোক নিয়োগ হলো, এখন তা বাতিল করে শুধু ৩১ দফা নয়, নির্বাচনী ইশতেহারে বলা ছিল নিম্ন আদালত পরিচালনার জন্য পৃথক সচিবালয় করা হবে। এর সাথেও বিট্রে করা হয়েছে।
নয়া দিগন্ত : মিডিয়ায় দেখা যায় রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষে বয়ান তৈরি করতে।
তাহসিন রিয়াজ : ব্যবসায়িক চিন্তা থেকে যেসব মিডিয়া পরিচালিত হচ্ছে তারা এখন এসব ভুলগুলো দেখছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের বরাদ্দকৃত ঋণের ৮৫ শতাংশ গত তিন মাসে সরকার নিয়েছে। দুই একটি মিডিয়া ছাড়া বাকিরা এসব প্রচার করছে না।
নয়া দিগন্ত : একই সাথে মিডিয়া তো এও প্রচার করছে মাটির নিচে সাত বিলিয়ন ডলারের কয়লা রেখে বছরে হাজার হাজার কোটি টাকার কয়লা আমদানি হচ্ছে।
তাহসিন রিয়াজ : সরকারের উচিত এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া কিন্তু যখন আপনি কম্প্রোমাইজ হয়ে যাবেন তখন আপনি কিভাবে ব্যবস্থা নেবেন।



