পাহাড়ি ফলে সরগরম রাঙ্গামাটি সংরক্ষণ সঙ্কটে কৃষকের শঙ্কা

Printed Edition

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি

বর্ষার আগমনী আবহে রাঙ্গামাটির পাহাড়জুড়ে এখন মৌসুমি ফলের ভরা মৌসুম। কাপ্তাই হ্রদের বুকে নৌকাভর্তি আম, কাঁঠাল, আনারস ও লিচু নিয়ে কৃষকদের আনাগোনায় জমে উঠেছে জেলার ভাসমান হাটগুলো। এসব হাট শুধু বেচাকেনার কেন্দ্রই নয়, পাহাড়ি অঞ্চলের হাজারো কৃষক পরিবারের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবেও ভূমিকা রাখছে।

রাঙ্গামাটি সদর, লংগদু, বাঘাইছড়ি, কাপ্তাই, বরকল, জুরাছড়ি, বিলাইছড়ি, নানিয়ারচর, কাউখালী ও রাজস্থলী উপজেলার বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকায় এখন ফল সংগ্রহ ও বিপণনের ব্যস্ত সময়। স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, বছরের এই মৌসুমের আয় অনেক পরিবারের প্রধান অর্থনৈতিক ভরসা। পাহাড়ের ঢালে উৎপাদিত ফল স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলাতেও সরবরাহ করা হচ্ছে।

শহরের বনরূপা সমতা ঘাটের ভাসমান হাটে প্রতিদিন ভোর থেকেই কৃষকদের নৌকা ভিড়তে দেখা যায়। বাগান থেকে সরাসরি আনা তাজা ফল বিক্রি হওয়ায় মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য তুলনামূলক কম। এতে কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ পান।

কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে বাজারে দেশী পাকা আমের সরবরাহ বেড়েছে। প্রতি কেজি আম ১৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মে মাসের শুরু থেকেই দেশী ও চায়না থ্রি জাতের লিচু বাজারে এসেছে। দেশী লিচুর প্রতি ১০০টির দাম আকারভেদে ৭০ থেকে ১৫০ টাকা এবং চায়না থ্রি জাতের লিচু ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া এক জোড়া আনারস ৪০ থেকে ১০০ টাকা এবং কাঁঠাল ৪০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সমতা ঘাটের ভাসমান ফলের হাট ছাড়াও রাঙ্গামাটি শহরের চারটি হাটসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অন্তত ৬০টি হাটে বর্তমানে মৌসুমি ফলের বেচাকেনা চলছে। তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ। পর্যাপ্ত সংরক্ষণব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ফল নষ্ট হয়ে যায়। আবার একসাথে বিপুল পরিমাণ ফল বাজারে আসায় অনেক সময় দাম কমে যায়, ফলে কৃষকরা প্রত্যাশিত লাভ থেকে বঞ্চিত হন। কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ, ফল সংগ্রহকেন্দ্র ও উন্নত প্যাকেজিং সুবিধা গড়ে তোলা গেলে অপচয় কমবে এবং কৃষকের আয় বাড়বে। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে সমন্বিত সংগ্রহ ও বিপণনব্যবস্থা চালু এবং অনলাইন বিপণনের সুযোগ সম্প্রসারণ করা গেলে দেশের বড় বাজারগুলোর সাথে সরাসরি সংযোগ তৈরি হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, রাঙ্গামাটির মৌসুমি ফল শুধু সুস্বাদু খাদ্যপণ্য নয়, জেলার অর্থনীতিরও অন্যতম চালিকাশক্তি। পরিকল্পিত সংরক্ষণব্যবস্থা ও আধুনিক বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে এই খাত পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর টেকসই উন্নয়নে আরো বড় অবদান রাখতে পারে।