ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় একটি বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি পদে জাল সনদ ব্যবহার করে স্থানীয় বিএনপি নেতা মো: নাজমুল হুদাকে নিয়োগ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। তিনি যে ডিগ্রি সনদ জমা দিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট কলেজে ওই নামে কোনো শিক্ষার্থীর রেকর্ড নেই বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি উপজেলার ছাতনাই উচ্চবিদ্যালয়ের। বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান মো: নাজমুল হুদা। স্থানীয়দের দাবি, এতদিন তাকে এইচএসসি পাস হিসেবেই জানতেন সবাই। হঠাৎ করে ডিগ্রি পাসের সনদ দেখিয়ে সভাপতি হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়। পরে বিষয়টি যাচাই করতে রংপুরের পীরগাছা সরকারি কলেজে যোগাযোগ করা হলে কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, নাজমুল হুদা যে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর উল্লেখ করেছেন, সেই নম্বরে ও নামে কোনো শিক্ষার্থীর তথ্য কলেজে নেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক মো: আব্দুল করিম ও সহকারী প্রধান শিক্ষক মো: অজিবুল হক দুলুর যোগসাজশে তাকে সভাপতি করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আব্দুল করিম বলেন, কমিটি গঠনের সময় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন নাম প্রস্তাব করা হয়। সেই তালিকায় নাজমুল হুদার নামও ছিল। তিনি নিজেকে ডিগ্রি পাস বলে দাবি করায় বিষয়টি যাচাই না করেই তার নাম পাঠানো হয়েছিল। অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে নাজমুল হুদা বলেন, ‘আমি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি। ডিগ্রি পাস না হলে আমাকে সভাপতি করা হতো না।’
পীরগাছা সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোছা: মোরশেদা বেগম বলেন, কলেজের সংরক্ষিত রেকর্ড যাচাই করে নাজমুল হুদা নামে কোনো শিক্ষার্থীর তথ্য পাওয়া যায়নি। উপস্থাপিত সনদটি জাল বা অসত্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক অধ্যাপক মো: আমিনুল হক বলেন, নিয়ম অনুযায়ী তিনজনের নাম প্রস্তাব আকারে পাঠানো হয় এবং সেখান থেকে একজনকে সভাপতি মনোনীত করা হয়। যদি জাল সনদের অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: ইমরানুজ্জামান বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হবে। সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।


