শিশু সন্তানের চিকিৎসা শেষে ফেরার পথে প্রাণ গেল মায়ের পৃথক ঘটনায় নিহত ৩, আহত ২৮

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে অসুস্থ শিশু সন্তানকে ডাক্তার দেখিয়ে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে এক মায়ের। এ ছাড়া অন্যান্য স্থানে আরো তিনজন নিহত ও ২৮ জন আহত হয়েছেন।

দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) সংবাদদাতা জানান, পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে অসুস্থ শিশুসন্তানকে ডাক্তার দেখিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ট্রাকের চাপায় বীথি আক্তার (৩০) নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছে তার তিন বছরের ছেলে আব্দুর রহমান। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে দেবীগঞ্জ-ডোমার মহাসড়কের ফার্মগেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত বীথি আক্তার দেবীগঞ্জ উপজেলার পামুলী ইউনিয়নের একতা মোড় এলাকার অটোভ্যান চালক জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিশুসন্তানের চিকিৎসার জন্য স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী নীলফামারীর ডোমারে গিয়েছিলেন জাহিদুল ইসলাম। রাতে চিকিৎসা শেষে অটোভ্যানে করে বাড়ি ফেরার পথে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় অটোভ্যানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে উল্টে গেলে বীথি আক্তার ও তার শিশুসন্তান সড়কে ছিটকে পড়েন।

এ সময় দ্রুতগতির একটি ট্রাক বীথি আক্তারকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হয় শিশুটি। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও দেবীগঞ্জ থানা পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। পরে শিশুটির অবস্থার অবনতি হলে তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

ঘটনার পর ঘাতক ট্রাকটি আটক করা হলেও চালক পালিয়ে যান। দুর্ঘটনার কারণে কিছু সময় মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে এবং যানজটের সৃষ্টি হয়।

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানান, চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার প্রতাপপুর গ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত চার বছরের শিশু ইউলাদ মারা গেছে। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত ইউলাদ প্রতাপপুর স্কুলপাড়া গ্রামের বাদল ইসলামের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে ইউলাদের বাবা জুমার নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে মসজিদে যাচ্ছিলেন। এ সময় শিশু ইউলাদও বাবার সাথে নামাজে যাওয়ার জন্য বায়না ধরে। পরে তার মা তাকে রাস্তা পার করে বাবার কাছে পৌঁছে দেন। সড়কের পাশে একটি দোকান থেকে বাবা তাকে সিঙ্গাড়া কিনে দিয়ে বাড়িতে ফিরে যেতে বলেন। বাড়ি ফেরার পথে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি মোটরসাইকেল ইউলাদকে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এতে সে গুরুতর আহত হয়। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে দর্শনার ক্লিনিকে নেয়া হয়। পরে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। পরে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাত ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

বিয়ানীবাজার (সিলেট) সংবাদদাতা জানান, সিলেটের বিয়ানীবাজারে একদিনের ব্যবধানে সড়ক দুর্ঘটনায় এক তরুণ ও এক কিশোরের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার বিকেলে সিলেট-বিয়ানীবাজার মহাসড়কে সিএনজির সাথে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারায় মাদরাসা ছাত্র আহসান হাবিব (১৫)। সে উপজেলার চারাবই এলাকার বাসিন্দা।

স্বজনরা জানান, বিয়ানীবাজার থেকে কোরআন আনার উদ্দ্যেশ্যে সে শেওলা মাদরাসায় যায়। সেখান থেকে ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে তিন মোটরসাইকেল আরোহী লুটিয়ে পড়েন। পরে আহতদের উদ্ধার করে বিয়ানীবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে আহসানকে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় ফাহিম নামের তার বন্ধুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে প্রেরণ করা হয়। এর আগে সোমবার বিয়ানীবাজার-বারইগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কের নিদনপুরে বাসের চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন মোটরসাইকেল চালক সাকিব (১৮) নামের তরুণ। সিলেটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে বৃহস্পতিবার মারা যায়। শুক্রবার বাদ জুমআ তার পৈতৃক নিবাস চন্দগ্রাম ঈদগাহ মাঠে নামাজের জানাজা শেষে দাফন করা হয়।

ধামরাই (ঢাকা) সংবাদদাতা জানান, ঢাকার ধামরাইয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে দু’টি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

শনিবার উপজেলার গাংগুটিয়া ইউনিয়নের বারবাড়িয়া এলাকায় ইনসেপটা ফার্মাসিউটিক্যালসের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ধামরাই ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আল আমিন খান ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘স্বপ্ন’ ও ‘পদ্মা স্পেশাল’ নামের দু’টি বাসের মধ্যে সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনায় স্বপ্ন পরিবহনের যাত্রীরাই বেশি আহত হন। তারা বেশির ভাগই গ্রাফিক্স টেক্সটাইলের কর্মচারী ছিলেন। সংঘর্ষের পর স্বপ্ন পরিবহনের চালক বাসের ভেতরে আটকা পড়েন।

ধামরাই ফায়ার সার্ভিসের দু’টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতাল, ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।