ইরানের সাথে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটির নিখুঁত ও ব্যাপক হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২০টি সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিবিসি ভেরিফাইয়ের বিশ্লেষণ করা স্যাটেলাইট চিত্র ও ভিডিও ফুটেজ থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এই বিশ্লেষণ প্রমাণ করে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের হামলার পরিধি ও ক্ষয়ক্ষতি যতটা ব্যাপক, ওয়াশিংটন এ পর্যন্ত প্রকাশ্যে তার চেয়ে অনেক কম স্বীকার করেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে ইরানে একযোগে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। এর জবাবে ইসরাইলসহ মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে নিশানা করে পাল্টা আক্রমণ শুরু করে ইরান। এতে ওই অঞ্চলের মার্কিন অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজ ও রাডার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়। অপর দিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দফতর পেন্টাগনের দাবি, অভিযান শুরুর পর থেকে তারা ইরানে ১৩ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। হোয়াইট হাউজ বারবার দাবি করেছে যে ইরানের সামরিক বাহিনীকে প্রায় নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হয়েছে। তবে গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ইরানি সামরিক বাহিনীর সাফল্য তুলে ধরে বলেন, মধ্যপ্রাচ্য এখন আর মার্কিন ঘাঁটির জন্য ‘নিরাপদ কোনো স্থান’ নয়। বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষয়ক্ষতির ধরন দেখে স্পষ্ট যে তেহরানের পাল্টা হামলা মার্কিন কর্মকর্তাদের আগের স্বীকারোক্তির চেয়ে অনেক বেশি নিখুঁত ও ব্যাপক ছিল। এ বিষয়ে বিবিসি ভেরিফাইয়ের পক্ষ থেকে একজন মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলেও নিরাপত্তার অজুহাতে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
সঙ্ঘাতসংক্রান্ত স্যাটেলাইট বিশ্লেষণ সীমিত করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রধান স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘প্ল্যানেট’কে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ এলাকার নতুন ছবি প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের অনুরোধ জানায়। প্ল্যানেটও সুর মিলিয়ে জানায়, তারা চায় না এই ছবিগুলো কোনো ‘বৈরী পক্ষের’ হাতে পড়ুক। ফলে বিবিসি ভেরিফাই ক্ষয়ক্ষতির খোঁজখবর রাখতে প্ল্যানেটের পুরনো ছবির পাশাপাশি অন্য আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের স্যাটেলাইট চিত্র ব্যবহার করেছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কাতার, কুয়েত, ইরাক, জর্দান, বাহরাইন ও ওমানে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর এই অনুসন্ধান চালানো হয়। বিবিসি ২০টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও বিশ্লেষকদের ধারণা এই সংখ্যা ২৮টি পর্যন্ত হতে পারে।
ক্ষতিগ্রস্ত মূল্যবান লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে আরব আমিরাতের আল রুওয়াইস ও আল সাদার এবং জর্দানের মুওয়াফফাক সালতি বিমান ঘাঁটিতে থাকা তিনটি অত্যাধুনিক অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যাটারি সিস্টেম (থাড) রয়েছে।



