নিজস্ব প্রতিবেদক
বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ আহত ১৫ জন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে দৃঢ় অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী সারা দেশে সর্বোচ্চসংখ্যক সদস্য। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি অঙ্গীকার, পেশাদারিত্ব এবং নিরপেক্ষতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বাহিনীর মোট পাঁচ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৩ জন কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সদস্য-সদস্যা দায়িত্ব পালন করেন।
বাহিনীর উপপরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মো: আশিকউজ্জামান জানান, দেশব্যাপী যেকোনো ধরনের হুমকি, বিশৃঙ্খলা ও নাশকতা প্রতিহত করে ভোটারদের নির্বিঘেœ ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা অত্যন্ত দৃঢ়তা ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। দায়িত্ব পালনকালে গোপালগঞ্জে দুইজন, খাগড়াছড়িতে তিনজন এবং গাইবান্ধায় ১০ জন সদস্য আহত হন, যা তাদের আত্মত্যাগ ও দায়িত্ববোধের সাক্ষ্য বহন করে। সারা দেশে ১৯০টিরও বেশি ভোটকেন্দ্রে জাল ভোট দিতে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে জাল ভোট প্রদানের উদ্দেশ্যে আসা সাতজনকে আনসার-ভিডিপি ও পুলিশের যৌথ অভিযানে আটক করা হয়।
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিনয়ঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেকশন কমান্ডার ও সহকারী সেকশন কমান্ডার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মোট চার রাউন্ড ফাঁকা গুলি নিক্ষেপ করেন এবং দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। গোপালগঞ্জ সদরে রেশমা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল কেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণে দুইজন আনসার সদস্য আহত হন। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে এক হাজার ৪০০ অব্যবহৃত ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের চেষ্টা প্রতিহত করতে গিয়ে ১০ জন আনসার ও পুলিশ সদস্য আহত হন। খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার খেদাছড়া ডিপি পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুর্বৃত্তদের হামলা প্রতিরোধ করতে গিয়ে আরো তিনজন আনসার-ভিডিপি সদস্য আহত হন। তিনি বলেন, নির্বাচন চলাকালে এন্ড ইউজারদের মাধ্যমে প্রাপ্ত তাৎক্ষণিক তথ্যের ভিত্তিতে সারা দেশে প্রায় ৭১৫টি বিশৃঙ্খলার ঘটনায় স্ট্রাইকিং ও টহল টিম দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এ ছাড়া ২০০টিরও বেশি সংঘর্ষের ঘটনায় আনসার ব্যাটালিয়ন স্ট্রাইকিং ফোর্স অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নোয়াখালী-৫, ফেনী-১, মেহেরপুর-১, দিনাজপুর-৩, সিলেট-১ ও নারায়ণগঞ্জ-১ সহ বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় দলীয় সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা দ্রুত মোকাবেলা করা সম্ভব হয়, ফলে বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা এড়ানো গেছে। টাঙ্গাইল, চট্টগ্রামসহ কয়েকটি জেলায় ব্যালট বাক্স ও ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের চেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ৮২ নম্বর কেন্দ্রে জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়। ঠাকুরগাঁওয়ের ১১৯ আরাজী গুঞ্জনগর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করলে আনসার সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আশিক বলেন, সার্বিকভাবে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর এই ব্যাপক ও সমন্বিত ভূমিকা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। পেশাদারিত্ব, প্রযুক্তিনির্ভর তৎপরতা ও নিরপেক্ষ অবস্থানের মাধ্যমে বাহিনী প্রমাণ করেছে যে, জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা এবং নির্বাচনী পরিবেশ সুরক্ষায় তারা এক নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর শক্তি। এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় আরো দক্ষতা, জবাবদিহিতা ও আস্থার ভিত্তি সুদৃঢ় করবে।



