লাল পতাকার রাজনীতির নামে মানুষের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে : নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেছেন, বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় ধরে ‘লাল পতাকার রাজনীতির নামে এ দেশের মানুষের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে’। শ্রমিক শ্রেণীর মুক্তির আন্দোলনের বদলে নিছক ভোটব্যাংক গঠন এবং আসন লাভের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন একটি গোষ্ঠী ।

গতকাল সোমবার রাজধানীর বাংলামোটর জাতীয় নাগরিক পার্টির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত ‘জুলাই সনদে শ্রমিক শ্রেণীর রাজনৈতিক অবমূল্যায়ন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।

নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, “আমি নিজে ছাত্রজীবনে বামপন্থার সাথে ছিলাম। পাটকল ও গার্মেন্ট শ্রমিকদের আন্দোলনে লাল পতাকার তলে আশ্রয় নিয়েছিলাম। তখন মনে করেছিলাম, এই লাল পতাকা দিয়েই শ্রমিক শ্রেণীর মুক্তি হবে। কিন্তু পরে দেখা গেল সেই লাল পতাকাও কয়েকটি দলের ভোটব্যাংক ও আসন ভিক্ষা লাভের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে বামপন্থীরা গত আশি-নব্বই বছর যাবৎ রাজনৈতিক দলগুলো যে ভাষণ ব্যবহার করে এসেছে, শ্রমিক শ্রেণীর মুক্তি ও বিপ্লবের কথা, সেই স্লোগানগুলো আজ অনেক ক্ষেত্রেই টার্গেট করে ভোটব্যাংক গঠনের উপকরণে পরিণত হয়েছে।’

জুলাই আন্দোলনকে কার্ল মার্কসের সামাজিক বৈষম্য নস্যাৎ করার দর্শনের সাথে তুলনা করে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের ব্যানার ছিল ‘এন্টি-ডিসক্রিমিনেশন’ বা বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা। আমরা বৈষম্যহীন সমাজ চাই। কিন্তু লাল পতাকা যে শুধুই দলের ভোগের হাতিয়ারে পরিণত হবে, তা আমরা দেখতে চাই না। আপনারা বিপ্লবের ইতিহাস মুখস্থ করে সামান্য আসন বা ক্ষমতার বিনিময়ে সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিক্রি করবেন না।

নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, একাত্তরের পর যারা সমতা, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের জন্য লড়েছিলেন, সেই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের আদর্শের পাশে থাকাই কর্তব্য। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় নতুন নতুন অন্যায় ও প্রতারণা আবির্ভূত হয়েছে। যারা সারাদিন ‘মুজিব ভাই, মুজিব ভাই’ বলে মুখে ফেনা তুলছিল, তারা আসলে বাংলাদেশকে এক অসুস্থ অপসংস্কৃতির দিকে টেনে নিয়ে গিয়েছে।”

তিনি বলেন, “বর্তমানে আবারও একটি নতুন গোষ্ঠী ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠীর হওয়ার চেষ্টা করছে। ২৩ সালের জুলাই শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে ‘তারেক ভাই, তারেক ভাই’ স্লোগান দিয়ে দেশে নতুন ধরনের শক্তি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে। আমরা হুঁশিয়ার করে বলতে চায়, ইতিহাসে যারা এ ধরনের ভুল করেছে, তাদের পরিণতি ভালো হয়নি; অনেকেই এখন ভারত বা অন্যত্র নিঃস্ব অবস্থায় বেঁচে আছে। নতুন করে এই পথে হাঁটলে একই পরিণতি হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সংস্কার কমিশনের অধীনে গঠিত বিভিন্ন কমিটির নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করে তিনি বলেন, শ্রম কমিশনের রিপোর্ট সরকারের কাছে গেলেও তা বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। আমরা হুঁশিয়ার করে বলছি, এ দেশের যুবসমাজ, বিশেষত ‘জেন-জি’ প্রজন্ম আপনাদের আদরও জানাবে, কিন্তু ভুল করলে সংশোধন করতেও পিছপা হবে না।

আমরা ধনী-গরিবের বৈষম্য কমানো এবং শ্রমজীবী মানুষের মর্যাদা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ‘জাতীয় শ্রমিক শক্তি’ নামে একটি প্ল্যাটফর্মে কাজ শুরু হয়েছে। আমরা যে রাজনৈতিক লেখা-কাঠামো গঠন করেছি তার মূল উদ্দেশ্যই হলো বৈষম্যহীন অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করা।