চরকাউয়ার স্বনির্ভর খালে ১৮ অবৈধ বাঁধ, পানিপ্রবাহ বন্ধ

Printed Edition

বরিশাল ব্যুরো

বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের স্বনির্ভর খালে অবৈধভাবে নির্মিত ১৮টি বাঁধ ও তিনটি বসতঘর অপসারণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় তাদের সেচব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। এতে চলতি মৌসুমে কৃষি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে তারা দাবি করছেন। গতকাল রোববার এ বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদের প্রশাসকের কাছে স্থানীয় ১৫ জন কৃষকের স্বাক্ষরসংবলিত একটি লিখিত আবেদন জমা দেয়া হয়।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চরকাউয়া খেয়াঘাট সড়কের ব্যারিস্টার বাড়ি এলাকা থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত বিস্তৃত স্বনির্ভর খালটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে খনন করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখল ও নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে খালটি এখন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, খালের মধ্যে বর্তমানে ১৮টি অবৈধ বাঁধ এবং তিনটি বসতঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ পুরোপুরি ব্যাহত হচ্ছে। ফলে কৃষিজমিতে প্রয়োজনীয় সেচের পানি পৌঁছাচ্ছে না। খালটি ওই এলাকার কৃষকদের প্রধান সেচনির্ভর জলপথ হওয়ায় পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাব সরাসরি পড়ছে কৃষি উৎপাদনে।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, খালটি সচল থাকলে সহজেই জমিতে সেচ দেয়া যেত। কিন্তু এখন সেই সুযোগ নেই। দ্রুত এসব প্রতিবন্ধকতা অপসারণ না করা হলে আগামী মৌসুমে আরো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে বলে তারা বলেন। ভুক্তভোগী কৃষকরা আরো জানান, পানির স্থবিরতার কারণে শুধু কৃষিকাজই নয়, এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়েছে। এ কারণে কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে এবং খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।

এদিকে খাল খননের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আজমাইন এন্টারপ্রাইজ জানিয়েছে, খননকৃত খালের মধ্যে থাকা অবৈধ স্থাপনা অপসারণ না হওয়ায় প্রায় ১০ দিন ধরে খননকাজ বন্ধ রয়েছে। এতে শ্রমিকরা অলস সময় পার করছেন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নেও বিলম্ব হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের প্রকৌশলী সৈয়দ ওয়াহিদ মুরাদ বলেন, জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদের উদ্যোগে অবৈধ স্থাপনা সরানো হলে দ্রুত খননকাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

বরিশাল জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মো: ইমতিয়াজ মাহমুদ জুয়েল বলেন, খুব দ্রুত সার্ভে করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং অবৈধ স্থাপনা থাকলে তা অপসারণ করা হবে।

বরিশাল জেলা প্রশাসক মো: খাইরুল আলম সুমন বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের মাধ্যমে খাল খননকাজের আওতাধীন এলাকা থেকে দ্রুত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।