ফখর উদ্দিন ইমরান কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ)
ঈদুল আজহায় কোরবানির গোশত ভাগাভাগির মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আসছে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌর এলাকার পূর্বপাড়া মহল্লাবাসী। প্রায় ২৫০ বছর ধরে চলে আসা পঞ্চায়েতভিত্তিক এ প্রথায় কোরবানির গোশত পৌঁছে যায় সমাজের প্রতিটি পরিবারের ঘরে।
ঈদের নামাজের পর কোরবানিদাতারা তাদের পশুর গোশতের একটি অংশ পঞ্চায়েতের নির্ধারিত স্থানে জমা দেন। পরে স্বেচ্ছাসেবকেরা সেগুলো সংগ্রহ করে ওজনের ভিত্তিতে সমান ভাগে বণ্টন করেন। তালিকা অনুযায়ী গোশত পৌঁছে দেয়া হয় প্রতিটি পরিবারের কাছে। কেউ উপস্থিত না থাকলেও তার বাড়িতে পৌঁছে যায় প্রাপ্য অংশ।
এ বছরও পঞ্চায়েতের আওতাভুক্ত ৫৭০টি পরিবারের মধ্যে গোশত বিতরণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, বর্তমানে এ সমাজে প্রায় ৫৭০টি ঘর রয়েছে। প্রতি বছর ওই সমাজের ৪০ থেকে ৪৬টি পরিবার কোরবানি দেয়। তবে কোরবানি দিয়েছেন কী দেননি, তা বিবেচ্য নয়; ঈদের আনন্দে অংশীদার হন সবাই। স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল্লাহ বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি এ প্রথা দেখে আসছেন। তার পূর্বপুরুষরাও একইভাবে পঞ্চায়েতের মাধ্যমে গোশত বণ্টন করতেন।
বণ্টন কার্যক্রমে যুক্ত শরিফ, মিজান ও আব্দুল্লাহ জানান, সামাজিক ঐক্য ও ধনী-গরিব বৈষম্য কমানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ। তালিকাভুক্ত সব পরিবারের মধ্যে সমানভাবে গোশত বিতরণ করা হয়।
এলাকাবাসীর মতে, সমাজে সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করতেই এ পঞ্চায়েত প্রথার সূচনা হয়েছিল। আধুনিক সময়ে অনেক জায়গায় পঞ্চায়েতব্যবস্থা হারিয়ে গেলেও কটিয়াদীর পূর্বপাড়ায় এটি এখনো মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক সংহতির প্রতীক হয়ে টিকে আছে।



