জিয়ো টিভি
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। আঞ্চলিক কূটনীতিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাসের সাথে বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানী ইসলামাবাদে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেয়া পোস্টের তথ্য অনুযায়ী শাহবাজ শরিফ কাজা কালাসকে জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি প্রচেষ্টায় ইইউর সমর্থনকে প্রশংসা করে পাকিস্তান। পাশাপাশি এই প্রচেষ্টা এগিয়ে নিতে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনিরের ভূমিকা তুলে ধরেন তিনি।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অত্র অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে ইইউসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন।’ ইইউ-পাকিস্তান কৌশলগত সংলাপের অষ্টম রাউন্ডের পর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন, নিরাপত্তা, অভিবাসন, টেকসই উন্নয়ন ও যোগাযোগ খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর জোর দেয়া হয়। অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে ইইউর জিএসপি+ বাণিজ্য সুবিধার গুরুত্বও তুলে ধরেন শাহবাজ শরিফ।
ইইউর পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতিবিষয়ক উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি এবং ইউরোপীয় কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজা কালাস আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় পাকিস্তানের অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি জানান, ব্রাসেলস ইসলামাবাদের সাথে কৌশলগত সম্পৃক্ততা আরো গভীর করতে আগ্রহী। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতিতে তাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘পাকিস্তান একটি প্রধান আঞ্চলিক শক্তি এবং ইইউর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।’
সফরকালে জিও টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসলামাবাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রশংসাও করেন কাজা কালাস। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে অন্যতম প্রধান আলোচক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। এক্সে দেয়া এক পোস্টে কাজা কালাস জানান, ইইউ-পাকিস্তান সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে তিনি শেহবাজ শরিফ ও ইসহাক দারের সাথে আলোচনা করেছেন। এ ছাড়া রাওয়ালপিন্ডিতে সেনা সদর দফতরে আসিম মুনিরের সাথেও বৈঠক করেছেন তিনি।
ওই পোস্টে তিনি লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনা সহজ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য আমি পাকিস্তানের প্রশংসা করেছি।’ তিনি আরো জানান, ইইউ পাকিস্তানের বৃহত্তম রফতানি গন্তব্য হিসেবে অব্যাহত রয়েছে এবং একই সাথে পাকিস্তান এই ব্লকের জিএসপি+ বাণিজ্য সুবিধার বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় সুবিধাভোগী। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সংলাপের সুবিধা দেয়া এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা হ্রাসের বৃহত্তর উদ্যোগকে সমর্থন করার প্রচেষ্টার মধ্যে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তানের কূটনৈতিক পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া আলোচনা এগিয়ে নেয়া এবং উত্তেজনা কমাতে অঞ্চলজুড়ে নিজেদের সম্পর্ককে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে ইসলামাবাদ।



