আল-জাজিরা
ইসরাইলের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের কঠোর সমালোচনা করেছে ইরান। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি নিরাপত্তা পরিষদকে শুধু উদ্বেগ প্রকাশে সীমাবদ্ধ না থেকে ইসরাইলের বিরুদ্ধে বাধ্যতামূলক ও শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেয়া এক পোস্টে গারিবাবাদি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সঙ্কট মূলত ইসরাইলের কর্মকাণ্ড এবং আন্তর্জাতিক দায়মুক্তির ফল। তার অভিযোগ, ইসরাইল বিভিন্ন দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করছে, যুদ্ধবিরতির চুক্তিকে অর্থহীন করে তুলছে এবং ফিলিস্তিনিদের পবিত্র স্থানগুলোর অবমাননা করছে। তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক আইন কেবল কম খরচের এবং অকার্যকর নিন্দা প্রস্তাবের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় না।” তার মতে, ইসরাইলের বিরুদ্ধে বাস্তবধর্মী ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় আঞ্চলিক অস্থিরতা আরো বেড়েই চলেছে।
গারিবাবাদি যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন যে, তিনি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে বৈরুতে বড় ধরনের হামলা চালানো থেকে বিরত থাকতে রাজি করিয়েছেন। তবে ইরানি কূটনীতিকের মতে, এটি ওয়াশিংটনের শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার প্রমাণ নয়; বরং ইসরাইলের সামরিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ ভূমিকার ইঙ্গিত বহন করে।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘যদি একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের রাজধানীতে হামলার সিদ্ধান্ত একটি ফোন কলের মাধ্যমে পরিবর্তন করা সম্ভব হয়, তাহলে লেবাননের বিরুদ্ধে মাসের পর মাস যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন, সামরিক আগ্রাসন, জনগণের বাস্তুচ্যুতি এবং দেশটির সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে হুমকি কেন অব্যাহত থাকল?’ ইরানের এই বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সামরিক তৎপরতা এবং হিজবুল্লাহকে ঘিরে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। একই সাথে গাজা যুদ্ধ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে।



