নিজস্ব প্রতিবেদক
বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পরবর্তী শ্রেণীতে ওঠার ক্ষেত্রে পুনঃভর্তি ফি নেয়ার প্রথা বাতিল করেছেন হাইকোর্ট। এখন থেকে একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হওয়ার পর নতুন করে ভর্তি ফি নেয়া যাবে না। গতকাল এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেন হাইকোর্ট।
এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি পুনঃভর্তি ফি বাতিল চেয়ে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় একটি রিট দায়ের করে বেসরকারি সংস্থা ‘বাংলাদেশ আইন ও অধিকার এইড’। রিটে অভিযোগ করা হয়, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বছরের পর বছর ধরে চলমান সবচেয়ে ‘ভয়াবহ ও নীরব শোষণের নাম পুনঃভর্তি ফি’।
রিটকারী সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আলী আসগর ইমন সাংবাদিকদের জানান, একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর এক শ্রেণী থেকে পরবর্তী শ্রেণীতে যাওয়ার সময় নতুন করে ভর্তি দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষা একটি ‘পণ্যে’ পরিণত হয়েছে এবং অভিভাবকেরা হয়ে পড়েছেন ‘জিম্মি গ্রাহক’। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সন্তানের পড়াশোনার ব্যয় বহন করতে গিয়ে চরম আর্থিক সঙ্কট ও মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছেন। সরকারিভাবে এ অনিয়ম স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ রয়েছে উল্লেখ করে ইমন বলেন, গত নভেম্বরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জারি করা ‘বেসরকারি স্কুল, স্কুল অ্যান্ড কলেজে (মাধ্যমিক, নিম্নমাধ্যমিক ও সংযুক্ত প্রাথমিক স্তর) শিক্ষার্থী ভর্তি নীতিমালা’ অনুযায়ী, একই প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পরবর্তী শ্রেণীতে ভর্তির ক্ষেত্রে সেশন চার্জ নেয়া গেলেও পুনঃভর্তি ফি নেয়া যাবে না।
তিনি আরো বলেন, পুনঃভর্তির নামে আলাদা ফি আদায় যে অবৈধ, তা সরকারের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পর্যায় থেকেই স্বীকৃত। কিন্তু বাস্তবে এই নির্দেশনা কার্যকর হচ্ছে না। সারা দেশে বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রকাশ্যে এ প্রজ্ঞাপন লঙ্ঘন করছে। শিক্ষা বোর্ড, জেলা প্রশাসন কিংবা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলেই রিট দায়ের করা হয়েছে। এ দিকে গত সোমবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনিয়ম রোধ, স্বচ্ছতা নিশ্চিত ও জবাবদিহিতা জোরদারের লক্ষ্যে নতুন ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নীতিমালা’ প্রকাশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ওই নীতিমালাতেও ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পুনঃভর্তি ফি আদায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে।



