২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে লাখো বিশ্বাসী মানুষ ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বরে জমায়েত হন। উপস্থিত জনতার বেশির ভাগ ছিলেন মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষক এবং ধর্মপ্রাণ মুসলমান।
শাহবাগে ইসলামবিদ্বেষী সেক্যুলারদের সমাবেশ থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর প্রতিক্রিয়ায় শাপলা চত্বরে বিশ্বাসী মানুষের ঢল নামে। এতে ক্ষমতাসীন সেক্যুলারদের পিলে চমকে যায়। ফ্যাসিবাদী আদর্শে বিশ্বাসী শেখ হাসিনা সরকার মসনদ হারনোর ভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে শাপলার গণজমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে রাতের আঁধারে ক্র্যাকডাউন চালায়। মানবাধিকার সংগঠন অধিকার ওই ঘটনায় ৬১ জন নিহত হওয়ার তালিকা প্রকাশ করেছিল। এই নারকীয় হত্যার ঘটনাকে দেশী-বিদেশী মানবাধিকারকর্মীরা গণহত্যা বলে অভিহিত করেন। কিন্তু সরকার তা অস্বীকার করে। কোনো মানুষ মারা যায়নি বলে খোদ ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা দাবি করেন। জাতীয় সংসদে এ নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করতেও দ্বিধা করেননি। তিনি বলেছিলেন, মুসল্লিরা রঙ মেখে সঙ করেছে।
সরকারের ওই বয়ান দেশের বেশির ভাগ সংবাদমাধ্যম সমর্থন করে। গণমাধ্যমের সমর্থনের মনস্তত্ত্ব হলো— যারা শাপলা চত্বরে জমায়েত হয়েছিলেন এদেশের সেক্যুলার মিডিয়ার দৃষ্টিতে তারা ছিলেন ঊনমানুষ। ফলে শেখ হাসিনার হয়ে শাপলার গণজমায়েতের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচারণা চালায় দু’-একটি বাদে সব মিডিয়া। দেশের কথিত সুশীলসমাজও মুখে কুলুপ এঁটে থাকে। টুঁ শব্দটি করেনি।
এমন অসহনীয় পরিস্থিতিতে বিদেশী গণমাধ্যমে প্রকৃত চিত্র ফুটে উঠবে বলে আশা করেছিল মজলুম জনগোষ্ঠী। কিন্তু তারা হতাশ হন বিবিসি (ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং করপোরেশন) বাংলার ‘বস্তুনিষ্ঠ’ সাংবাদিকতার নমুনা দেখে। একাত্তরে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বিবিসির অসাধারণ ভূমিকায় এদেশের মানুষ গণমাধ্যমটির প্রতি ছিল কৃতজ্ঞ। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের পক্ষে ছিল বিবিসির বলিষ্ঠ ভূমিকা। অবাক করা বিষয় হলো— সেই বিবিসি বাংলা শাপলা চত্বরের গণহত্যা সম্পর্কে সর্বৈব মিথ্যা তথ্য দিয়েছে। ফলে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা পরবর্তীতে ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে পেরেছেন। তবে আমাদের এই কথা স্মরণে রাখা প্রয়োজন, বিবিসি ইংরেজি সার্ভিসের সংবাদ এখনো দর্শকশ্রোতা ও পাঠকের আস্থা ধরে রেখেছে। কিন্তু বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য পরিবেশিত বাংলা সার্ভিসের বিশ্বাসযোগ্যতা এখন তলানিতে। বলা চলে, এর সংবাদের ওপর পাঠকের আজকাল আর বিন্দুমাত্র আস্থা নেই।
শাপলা চত্বরের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বর্তমান চিফ প্রসিকিউটর যখন গত ৪ মে এক সংবাদ সম্মেলন করে সাংবাদিকদের বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে দিনে-রাতে শুধু ঢাকাতেই ৩২ জন নিহত হয়েছেন। তখন বিবিসির একচোখা সাংবাদিকতার বিষয়টি আবার আলোচনায় এসেছে। এক টিভি সাক্ষাৎকারে বিবিসি বাংলার সাবেক প্রধান সাবির মুস্তফা দাবি করেন, শাপলা চত্বরে গণজমায়েত ছত্রভঙ্গ করার সময় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তিনি বিবিসি বাংলার প্রতিবেদক কাদির কল্লোলের বরাতে জানান, কাদির কল্লোল তাকে জানিয়েছেন— শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৬ মে ভোর চারটা পর্যন্ত কোনো লাশ বা রক্ত দেখেননি। এর ভিত্তিতে সাবির মুস্তফা দাবি করেন, শাপলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এতে কেউ যদি বিবিসি বাংলার বস্তুনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তাতে তার কিছু যায়-আসে না।
২০১৩ সালের মে মাসে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে এখন পর্যন্ত ঢাকা নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে ৫৮ জনের হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) চিফ প্রসিকিউটর মো: আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, এই ৫৮ জনের পরিচয় তারা শনাক্ত করতে পেরেছেন। ৪ মে, ২০২৬ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যালে নিজ দফতরে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের চিফ প্রসিকিউটর এ কথা বলেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেছেন, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার তদন্তে এখন পর্যন্ত উঠে এসেছে যে, ২০১৩ সালের ৫ মে (দিন ও রাতে) শুধু শাপলা চত্বরে বা ঢাকার মধ্যে ৩২ জনের নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই ৩২ জনের পরিচয় তারা শনাক্ত করতে পেরেছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের ময়নাতদন্ত হয়েছে, অনেকের হয়নি। তাদের কবর, পরিবারের সদস্যদের সাথে তদন্ত সংস্থার কথাবার্তাসহ তদন্তে এই ৩২ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।
চিফ প্রসিকিউটর আরো বলেন, পরদিন (২০১৩ সালের ৬ মে) নারায়ণগঞ্জের ২০ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এই ২০ জনের পরিচয়ও শনাক্ত হয়েছে। একই দিন চট্টগ্রামে পাঁচজন নিহত হন। আর কুমিল্লায় নিহত হন একজন।
আমিনুল ইসলাম বলেন, সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৫৮ জনের নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। আর তাদের সবারই পরিচয় তারা (ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা) শনাক্ত করতে পেরেছেন।
বাংলা প্রবাদ আছে— ‘ধর্মের কল বাতাসে নড়ে’ অর্থাৎ সত্য কখনো চাপা থাকে না। কিছু দিনের জন্য আড়াল করা বা ধামাচাপা দেয়া গেলেও সময়ের ব্যবধানে সত্য জনপরিসরে আছে। এটিই বিধির-বিধান। এর কোনো নড়চড় হয় না। তাই তো দেখা যাচ্ছে, দীর্ঘ ১৩ বছর পর হলেও শাপলা চত্বরের নির্মম হত্যাকাণ্ডের তথ্য আলোর মুখ দেখল।
প্রশ্ন হলো— একটি খ্যাতিসম্পন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম হিসেবে বিবিসি বাংলা ওই সময় কেন অপেশাদার ও শেখ হাসিনার প্রচারযন্ত্রের ভূমিকা নিয়েছিল? কেন বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা বিসর্জন দিয়ে ন্যক্কারজনক ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়? এ দুই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আমাদের প্রথমে নজর দিতে হবে সাবির মুস্তফার পারিবারিক বা বংশ-পরিচয়ের দিকে। তার বাবা কে জি মুস্তফা ছিলেন বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা সাংবাদিক। তিনি দৈনিক সংবাদের সম্পাদক ছিলেন। দীর্ঘদিন সংবাদ ছিল তার কর্মস্থল।
স্মরণযোগ্য যে, প্রখ্যাত মুসলিম লীগ নেতা নুরুল আমিনের পৃষ্ঠপোষকতায় পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী নাসিরউদ্দিন আহমদ কর্তৃক ইস্ট পাকিস্তান প্রেস, ২৬৩ বংশাল রোড, ঢাকা থেকে মুদ্রিত হয়ে ১৭ মে, ১৯৫১ তারিখে দৈনিক সংবাদের প্রথম আত্মপ্রকাশ ঘটে। প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন খায়রুল কবির। শুরুতে এটি মুসলিম লীগের মুখপত্র হিসেবে ভূমিকা রেখেছে। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের কাছে মুসলিম লীগ হেরে গেলে পত্রিকাটির মালিকানায় হাতবদল ঘটে। মালিকানার দায়িত্ব নেন আহমেদুল কবির। আর সম্পাদকের দায়িত্বে নিয়োজিত হন জহুর হোসেন চৌধুরী। তখন থেকে বাম আদর্শের প্রচারক হয়ে ওঠে দৈনিক সংবাদ।
কৌতূহলোদ্দীপক হলো— খায়রুল কবির ও আহমেদুল কবির সহোদর ভাই। অন্যদিকে কবির ভ্রাতৃদ্বয় ছিলেন প্রখ্যাত মুসলিম লীগ নেতা নুরুল আমিনের ভাগ্নে। আহমেদুল কবির একজন শিল্পপতি হয়েও বাম রাজনীতি করতেন। তার মালিকানাধীন পত্রিকাটি হয়ে ওঠে বামপন্থীদের আখড়া। বাম আদর্শের ব্যক্তিদের আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠে সংবাদ। একসময় সংবাদের নামে বরাদ্দ পাওয়া বংশালের ভবনসহ জমিটি বিক্রি করে পত্রিকাটি পুরানা পল্টনের ভাড়া অফিসে স্থানান্তর করা হয়। উল্লেখ্য, বংশালে সংবাদ অফিসের অনতিদূরে দৈনিক সংগ্রামেরও কার্যালয় ছিল।
সংবাদের সম্পাদক কে জি মুস্তফা যিনি আওয়ামী ঘরানার সাংবাদিক হিসেবে মশহুর ছিলেন। এই সূত্রে শেখ মুজিব ও তার পরিবারের ঘনিষ্ঠজন ছিলেন। দুই পরিবার ছিল একে-অপরের হরিহর আত্মা। কে জি মুস্তফা ছিলেন শেখ হাসিনার শ্রদ্ধাভাজন। ছেলে সাবির মুস্তফাও ছিলেন পতিত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার প্রিয়ভাজন।
শেখ হাসিনার নেত্বত্বে ১৯৯৬ সালে পঁচাত্তরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন-পরবর্তী ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ফের ক্ষমতায় আসে। তখন শেখ কামালের সহপাঠী বিতর্কিত শিল্পপতি সালমান এফ রহমান ’৯৬ শেখ হাসিনার পরামর্শে বড় পুঁজি বিনিয়োগ করে দৈনিক মুক্তকণ্ঠ পত্রিকা প্রকাশ করেন। শেখ হাসিনার পছন্দের সাংবাদিক কে জি মুস্তফা হন নতুন পত্রিকা মুক্তকণ্ঠের সম্পাদক। তবে অব্যবস্থাপনার কারণে কয়েক বছর পর পত্রিকাটির প্রকাশনা মুখ থুবড়ে পড়ে।
বাবা কে জি মুস্তফার পদাঙ্ক অনুসরণ করে ছেলে সাবির মুস্তফাও সাংবাদিকতা পেশায় নাম লেখান। বাবা আওয়ামী ঘরানার বড় সাংবাদিক হওয়ায় ছেলে সাবির মুস্তফা তরতর করে পেশায় শক্ত অবস্থান গড়ে তোলেন। এ কথা বলা অত্যুক্তি হবে না যে, আসলে আওয়ামী পৃষ্ঠপোষকতায় সাবির মুস্তফাও বড় সাংবাদিক বনে যান। তাই বিবিসি বাংলার দায়িত্ব পেয়ে তিনি যে আওয়ামী লীগের পারপাস সার্ভ করবেন, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এ জন্য ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরে গণহত্যার মতো ঘটনাও সাবির মুস্তফার চোখে ধরা পড়ে না।
আর একটি তথ্য না দিলে বিবিসি বাংলায় কী ধরনের সাংবাদিকতা হয়— সে সম্পর্কে পাঠকের অস্পষ্টতা থেকে যেতে পারে। তথ্যটি হলো— ঢাকা অফিস এবং লন্ডনে বিবিসি বাংলার সদর দফতরে আওয়ামীপন্থী সেক্যুলার এবং কলকাতাকেন্দ্রিক সংস্কৃতির ধারক না হলে কারো পক্ষে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমটিতে সাংবাদিকতা করা দুরূহ। বলা চলে খানিকটা অসম্ভব। এই সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক হতে হলে ভারতের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া বাধ্যতামূলক। তা না হলে চাকরি টিকবে না। এই প্রেক্ষাপটে সাবির মুস্তফা সাংবাদিকতার নামে যা করেছেন, আদতে তা দলীয় আনুগত্য। যাকে সাংবাদিকতার ভাষায় বলা যায়— এমবেডেড জার্নালিজম। কাদির কল্লোলের বেলায়ও বিষয়টি শতভাগ সত্য। ৫ আগস্ট পরবর্তী জাতীয় প্রেস ক্লাবে এই কলাম লেখক তাকে যত বার দেখেছেন; তাতে তার চলাফেরায় এক ধরনের জড়তা স্পষ্ট। মনে এই সংশয় দানা বাঁধছে যে, শাপলা চত্বরে অপসাংবাদিকতার কারণে তার চলাফেরায় জড়তা কি-না। শাপলা চত্বরের ঘটনায় সাবির মুস্তফা এবং কাদির কল্লোল সাংবাদিকতার নামে যে অপসাংবাদিকতা করেছেন; তা সাদা চোখে স্পষ্ট। প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবিসি বাংলা এর দায় এড়াতে পারে না।
আমাদের দুর্ভাগ্য— এদেশের কিছু সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা নিজেদের ব্রাহ্মণ বা উচ্চমার্গীয় সাংবাদিক মনে করেন। তাদের চোখে বাদবাকি সংবাদকর্মী নমঃশূদ্র বা নিচু স্তরের সাংবাদিক। আর বিশ্বাসী কোনো ব্যক্তি হলে তো তাদের মানদণ্ডে তিনি সাংবাদিকই নন। সত্য হলো— নমঃশূদ্র সংবাদকর্মীরাই চব্বিশের বর্ষা বিপ্লবে অবদান রেখেছেন। তবে চব্বিশের বর্ষা বিপ্লবের মতো এত বড় ঘটনার পরও এখনো জাতীয় জীবনে গুটিকয় ছাড়া আমাদের মিডিয়ার চরিত্র বদলায়নি। এদেশের অনেক গণমাধ্যমের অবস্থানই গণদুশমনের কাতারে। গণমানুষের কণ্ঠস্বর না হয়ে এসব সংবাদমাধ্যম আজও গোষ্ঠীস্বার্থ রক্ষায় অন্ধ ও বধির। বিবিসি বাংলা এক্ষেত্রে পথিকৃতের আসন অনায়াসে নিতে পারে।
আমাদের মিডিয়ার এই গণবিরোধী চরিত্র সাংবাদিকতার সংজ্ঞায় আর যাই হোক বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা নিশ্চয় নয়। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার সহজ মানে— যেকোনো ঘটনা অবিকৃত তুলে ধরা। ঘটনার অবিকৃত বর্ণনা কার পক্ষে গেল, না গেল— তা নিয়ে একজন ন্যায়নিষ্ঠ সাংবাদিকের কিছু যায়-আসে না। কিন্তু দেশে অনেক সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিক পক্ষপাতদুষ্ট। একচক্ষু হরিণসম। তাদের মনস্তত্ত্ব— বিশ্বাসীর আবার কিসের মানবাধিকার? শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী জমানায় এমন মানসিকতা ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিদের হত্যাযজ্ঞ করে তুলেছিল। আর বিবিসি বাংলার মতো গণমাধ্যম হাসিনার এই নিষ্ঠুরতার বৈধতা দিয়েছে। আসলে বিবিসি বাংলা বস্তুনিষ্ঠতার মুখোশে মানবতাবিরোধী অপরাধের সমর্থন জুগিয়েছে। অন্তত শাপলাচত্বরের ঘটনায় তাই বলতে হবে।
শাপলাচত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে যে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল, তা যেসব সাংবাদিক অস্বীকার করেছেন, উল্টো শেখ হাসিনার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে মানবতার পক্ষে শক্তভাবে দাঁড়ানো বা অবস্থান নেয়া। কারণ ওই সব সংবাদকর্মী আদৌ কোনো সাংবাদিক নন। সাংবাদিকতার বর্ম পরে মূলত শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে মদদ দিয়েছেন।
লেখক: সহকারী সম্পাদক, নয়া দিগন্ত



