(গত সংখ্যার পর)
কখন যাবেন চিকিৎসকের কাছে : হিক্কা সাধারণত ৫-১০ মিনিটের বেশি থাকে না। তার পরও কারো কারো একদিন এক সপ্তাহও টানা থেকে যেতে পারে। যদি দেখা যায় শিশুর হিক্কা টানা একদিনেও যাচ্ছে না, তখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন। এটি মূলত কোনো রোগের লক্ষণ হিসেবে হচ্ছে কি না বোঝার জন্য। তবে বুকের দুধ খায় এমন শিশুর হেঁচকি উঠলে নিশ^াস বন্ধ করার চেষ্টা করবেন না। হঠাৎ চমকে দেয়ার চেষ্টা করবেন না।
পূর্ব সতর্কতা : খাওয়ানোর সময় মুখে যেন বাতাস না ঢুকে সেদিকে খেয়াল রাখবেন। নিপলের ছিদ্র বেশি বড় বা ছোট যেন না হয়। বেশি বাতাস গিলে ফেলা হেঁচকির কারণ।
পানিতে ডুবে গেলে : পানি থেকে তুলে এনে উপুড় করে দেখতে হবে শ^াস-প্রশ^াস আছে কি না। এক্ষেত্রে নাম ধরে ডাকতে পারেন, বা কিছু জিজ্ঞেস করে দেখতে পারেন সাড়া দেয় কি না। যদি শ^াস-প্রশ^াস না থাকে বা শ^াস নিতে কষ্ট হয়েছ দেখা যায়, তাহলে দেখুন শ^াসনালির কোথাও কিছু আটকে আছে কি না। এজন্য মুখের ভেতর আঙুল দিয়ে কাদামাটি থাকলে বের করে দিতে হবে। এরপরও শ^াস না নিলে মাথা টানটান করে ধরে মুখ হা করাতে হবে। এরপর ডুবন্ত শিশুর মুখের সাথে এমনভাবে মুখ লাগাতে হবে যেন কোনো ফাঁকা না থাকে। নাক-মুখ একসাথে মুখের মধ্যে ঢুকিয়ে শ^াস দিতে হবে। যদি দেখা যায় যে, শ^াস দেয়ার কারণে ডুবন্ত শিশুর পেট ফুলে উঠছে, তাহলে কৃত্রিম উপায়ে শ^াস দেয়া ঠিকমতোই হচ্ছে বলে বোঝা যাবে। ডুবন্ত শিশু নিজে থেকে শ^াস না নেয়া পর্যন্ত এভাবে চালাতে হবে।
ভেজা কাপড় খুলে শুকনো কাপড় পরিয়ে দিতে হবে। শিশু শ^াস-প্রশ^াস নিলে হƒৎস্পন্দন চালু থাকলে এবং ভালো থাকলে তাকে কুসুম গরম দুধ, চা দিতে পারেন। পানি থেকে তুলেই পেটে চাপ দিয়ে বা শিশুকে উলটো করে পানি বের করার চেষ্টা করবেন না। প্রথমেই পেটে চাপ দেয়া বিপজ্জনক হতে পারে। শিশু বমি করতে পারে, যা ফুসফুসে প্রবেশ করে জটিলতাও তৈরি হতে পারে।
কখন যাবেন চিকিৎসকের কাছে?
প্রাথমিক চিকিৎসায় কাজ না হলে এবং পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হলে।
পূর্ব সতর্কতা : যাদের খিঁচুনি আছে তারা পুকুরে বা সুইমিংপুলে সাঁতার কাটবেন না। বাথটাব বা পানিভরতি বালতিও কিন্তু শিশুদের জন্য বিপজ্জনক। পানি রাখার পাত্রগুলো ঢাকনা দিয়ে রাখতে হবে। গ্রামে পুকুর-খালের চারপাশে বেড়া দিয়ে রাখুন, শিশু যেন অভিভাবকের অলক্ষে যেতে না পারে। নদীপথে যাত্রার সময় লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করুন।
(চলবে)



