বিনোদন প্রতিবেদক
দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক রাজধানী লাহোরের রাতের আকাশ আবার রঙবেরঙের ঘুড়িতে ছেয়ে গেছে। বহুল প্রতীক্ষিত ‘বসন্ত’ উৎসবের পুনর্জাগরণে আনন্দ আর উচ্ছ্বাসে মেতেছে শহরটি।
কর্তৃপক্ষ শুক্রবার জানিয়েছে, এবার অত্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা বিধিনিষেধ মেনে এই উৎসব পালনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে প্রাণঘাতী সুতা ব্যবহারের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে; জানানো হয়েছে যে মানুষের জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এমন সুতা ব্যবহার করলে সরাসরি গ্রেফতার করা হবে।
২০০৫ সাল থেকে পাঞ্জাব প্রদেশে ঘুড়ি উড়ানো নিষিদ্ধ ছিল। সে সময় ঘুড়ি কাটাকাটির লড়াইয়ে প্রতিযোগীরা সুতায় কাঁচ বা ধাতব প্রলেপ ব্যবহার করতেন। এই ধারালো সুতায় গলা কেটে অন্তত এক ডজন মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন, যাদের বেশির ভাগই ছিলেন মোটরসাইকেল আরোহী ও পথচারী। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাগুলোর প্রেক্ষাপটেই সরকার তখন প্রদেশজুড়ে বসন্ত উৎসব বন্ধ করে দিয়েছিল।
উৎসবকে নিরাপদ করতে পাঞ্জাব সরকার এবার বেশ কিছু বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে। মোটরসাইকেল আরোহীদের জন্য বাইকের সামনে লম্বা অ্যান্টেনার মতো ধাতব রড লাগানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যাতে বাতাসে ভেসে থাকা সুতা থেকে চালকের সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।
রাস্তায় যানজট কমাতে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে সরকার দুই দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। মুখ্যমন্ত্রী মারিয়াম নওয়াজ শরিফের সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, উৎসব হবে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রিত। আইন অমান্যকারীদের বড় অঙ্কের জরিমানা বা কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকেই শুরু হয়েছে এই দুই দিনের উদযাপন। লাহোরের পুরনো শহরের প্রতিটি ছাদ এখন লোকে লোকারণ্য। পরিবার আর বন্ধুদের সাথে নিয়ে সবাই মেতে উঠেছেন ঘুড়ি উড়ানোর আনন্দে। পুরনো লাহোরের বাসিন্দা ২৩ বছর বয়সী আশফাক আহমেদ নিজের ছাদ থেকে ঘুড়ি উড়াতে উড়াতে বলেন, ‘অনেক বছর পর আমরা অবশেষে এই দৃশ্য দেখার সুযোগ পেলাম। মানুষ যদি বিপজ্জনক সুতা ব্যবহার করা বন্ধ করে, তবে আশা করি এই আনন্দের উৎসবটি ভবিষ্যতে এভাবেই নিরাপদে চলতে পারবে।’


